প্রশাসনিক দক্ষতায় পুনে প্রথম, কলকাতা দ্বিতীয়

নয়াদিল্লি: রাজ্য পরিচালনায় কে কতটা এগিয়ে এই নিয়ে দশটি প্রশ্নের উত্তরের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে তালিকা৷ সেই তালিকা অনুযায়ী পুনে প্রথম স্থান দখল করে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে৷ তিরুঅনন্তপুরম ও ভুবনেশ্বর রয়েছে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে৷

সারা দেশের মধ্যে রাজ্য পরিচালনায় কে এগিয়ে কে পিছিয়ে সে নিয়ে হয়েছিল একটি সমীক্ষা৷ সেই সমীক্ষা হয় ২০১৭ তে৷ দেশের শহরগুলির মধ্যে সবদিক থেকে এগিয়ে কোন কোন শহর তারই গবেষণা করা হয়৷ বার্ষিক সমীক্ষার পঞ্চম সংস্করণে ৮৯টি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে ২৩টি শহর এই তালিকায় উঠে এসেছে৷ যেখানে নাগরিকত্ব, গণতন্ত্রের পরিকাঠামো, শহরের পরিকাঠামো, অ্যানুয়াল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াজ সিটি সিস্টেম(এএসআইসিএস)৷ রিপোর্ট অনুযায়ী, শহরগুলি আইন, নীতি, প্রতিষ্ঠান এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মানের উপর ভিত্তি করে স্কোর করেছে৷ এই সবের উপর নির্ভর করেই একটি রাজ্য পরিচালনা করা হয়৷

এএসআইসিএস গ্রুপ তাদের এই সমীক্ষাকে চারটি স্তরে ভাগ করে৷ শহরের পরিকল্পনা ও নকশা, সেই শহরের ক্ষমতা ও সম্পদ, সেই শহরের স্বচ্ছতা বা পরিচ্ছন্নতা এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত এবং বৈধ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব৷ এই সবদিক বিচার করে দশ নম্বরের মধ্যে পুনের প্রাপ্ত নম্বর ৫.১ এবং পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে ৪.৬৷ এই সমীক্ষাই হয় বিশ্বের উন্নত দেশগুলিতেও৷ উল্লেখ্য বিশ্বের উন্নত শহর নিউইয়র্ক ও লন্ডন স্কোর করেছে ৮.৮৷ অর্থাৎ উন্নত দেশ গুলির থেকে খুব বেশি পিছিয়ে নেই আমাদের দেশও৷ তিরুবনন্তপুরম ও ভুবনেশ্বরও দশে পেয়েছে ৪.৬৷

- Advertisement -

এই সমীক্ষার পর রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, ভারতীয় শহরগুলিতে নগর পরিকল্পনার যে পরিকাঠামো রয়েছে তা দুর্বল৷ সমস্যাগুলি চোখে পড়ে৷ এই সমস্যাগুলিই সুষ্ঠ পরিকল্পনা ও উন্নয়নের পরিকাঠামোগুলিকে সঠিকভাবে প্রয়োগ করেই সমাধান করা সম্ভব৷ সমস্যার বিষয় হল ভারতে প্রতি ৪ লক্ষ নাগরিকের জন্য মাত্র একটি শহুরে পরিকল্পক রয়েছে৷ এই নম্বরটাই আমেরিকায় প্রতি ৪৮ জনে একজন এবং ইউনাইটেড কিংডমে ১৪৮ জনে একজন৷

আমাদের দেশের আরেকটি বড় সমস্যা হল আর্থিক স্থিতিশীলতা৷ গড়ে হিসেব করলে দেখা যাবে এদেশের নগরগুলি তহবিলে মাত্র ৩৯ শতাংশ টাকা জমা করতে পারে ও সেই টাকা খরচও করে ফেলে৷ এমনকি বেশকিছু শহরের কর্মীদের বেতনও কভার হয়না৷ তৃতীয় বৃহত্তম সমস্যা হল কর্মীদের অদক্ষতা ও মানব সম্পদের সঠিকভাবে ব্যবহার করতে না পারা৷ শহরগুলির মেয়র ও কাউন্সিলরদের আইনি বিভাজন এবং নিম্ন মানের ক্ষমতায়ন সুশাসনের পথে প্রধান বাধা৷

রিপোর্ট অনুযায়ী সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল শহরের মানুষের যোগদান করার জন্য সেরকম ভাল প্ল্যাটফর্ম নেই যেখানে শহরের বাসিন্দারা নাগরিক বিষয়গুলিতে অংশ নিতে পারে৷ জনসাধারণের নিজের বক্তব্য প্রকাশ করা তথ্য উন্মুক্তকরণ, আর্থিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা প্রভৃতির মাধ্যমেই একটি শহর উন্নতির শিখরে পৌঁছতে পারে৷

Advertisement ---
---
-----