কাবুল : আতঙ্কে ভুগছেন আফগানিস্তানের শিখরা৷ প্রায় ২৫ টি শিখ পরিবার প্রাণ বাঁচাতে এখন ভারতীয় নাগরিকত্ব চাইছেন৷ তারা কোনওভাবেই যুদ্ধবিধ্বস্ত কাবুলে ফিরতে চাইছেন না৷ আর তাই কংগ্রেস শাসিত পাঞ্জাব সরকারের কাছে তাদের কাতর আবেদন প্রাণ বাঁচাতে যেন তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হয়৷

বছর কয়েক আগে কাবুল থেকে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন এই পঁচিশটি পরিবার৷ কিন্তু নাগরিকত্ব না থাকায় প্রতিদিন নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের৷  তারা জানিয়েছেন, যখন তারা কাবুলে ছিলেন তখন সেখান থেকে ৪০টি পরিবার এদেশে এসেছিল৷ কিন্তু এখন মাত্র ২৫টি পরিবার রয়ে গিয়েছে৷ নূন্যতম চিকিৎসা না পেয়ে তাদের মধ্যে মারা গিয়েছেন অনেকে৷ পাচ্ছেন না শিক্ষার অধিকার৷

আফগানিস্তানে জোর করে তাদের মুসলিম করে দেওয়া হচ্ছিল৷ এই ধর্মান্তকরণের প্রতিবাদ করে তাঁরা এদেশে পালিয়ে আসেন৷ কিন্তু সেখানেও অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন তাঁরা৷ শুধু তাই নয়, মুসলিম করে দেওয়া ছাড়াও, পরিবারের মহিলাদের তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়৷ ফলে প্রাণ সংকটে পড়ে আফগানিস্তান ছাড়েন এরা৷

এর আগে, আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর নিশানায় পড়েন শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ। আফগানিস্তানের জালালাবাদে আত্মঘাতী গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ২০ জনকে মেরে ফেলে আইএস। এদের মধ্যে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বিস্ফোরণে জখম হন আরও ২০।

আফগানিস্তানের আসন্ন নির্বাচনে শিখ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থী অবতার সিং খালসা ছিলেন নিহতের তালিকায়। এছাড়াও শিখ কমিটির মুখপাত্র ইকবাল সিং, সমাজকর্মী অনুপ সিং প্রমুখরা আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যেই যাচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তার আগেই বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়া হয় তাদের গাড়ি।

দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আই এস’র নিশানায় ছিল পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংখ্যালঘু শিখ গোষ্ঠী। স্থানীয় পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবারের আফগানিস্তানের জালালাবাদের মুখাবেরাট স্কোয়ারে শিখদের একটি গাড়ি লক্ষ্য করে এক আত্মঘাতী জঙ্গি বিস্ফোরণ ঘটায় আই এস। মৃত্যু হয় ১০ জন শিখ সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষ সহ ২০ জনের।

----
--