নয়াদিল্লি: দেশ জুড়ে ধর্মীয় মৌলবাদের বাড়বাড়ন্ত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার ফেরালেন পঞ্জাবের কবী সুরজিৎ পাতার। একই কারণে এই প্রথম সঙ্গীত -নাটক অ্যাকাডেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দিলেন প্রখ্যাত নাট্যশিল্পী মায়া কৃষ্ণা রাও৷ তাঁদের সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন বুকার জয়ী লেখক সলমন রুশদি৷ চুপ করে থাকতে পারল না জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও৷

কিন্তু কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী মহেশ শর্মা দাবি “হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করা ঠিক৷ কিন্তু বিশেষ মতাদর্শের ভিত্তিতে দল বেঁধে এ ভাবে প্রতিবাদ জানানো ঠিক নয়৷ সাহিত্যিকদের উচিত সরকার বা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখা৷সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরস্কার কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয় না। প্রতিবাদ তো সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থাকা উচিত।”

প্রসঙ্গত , উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে গোমাংস খাওয়ার অভিযোগের জেরে এক গ্রামবাসীর হত্যাকে নেহাত ‘দুর্ঘটনা ’ আখ্যা দিয়েছিলেন এই মহেশ শর্মাই৷ সোমবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান বিচারপতি সিরিয়াক জোসেফ বলেন , ‘দাদরির ঘটনায় মানবাধিকার ভয়ানক ভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে৷ আমাদের কাছে কিছু অভিযোগও এসেছে৷ কিন্ত্ত বিষয়টি ইতিমধ্যেই সংখ্যালঘু কমিশনের অধীনে চলে যাওয়ায় , নিয়ম অনুযায়ী আমরা এ ক্ষেত্রে পদক্ষেপ করতে পারি না৷ তবে কিছু করার চেষ্টা চালাচ্ছি৷ ’

গতকালও অ্যাকাডেমি পুরস্কার ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তর কথা জানান কাশ্মীরি লেখক গুলাম নবি খায়াল , উর্দু ঔপন্যাসিক রহমান আব্বাস , কন্নড় লেখক তথা অনুবাদক শ্রীনাথ ডি এন , হিন্দি লেখক মঙ্গলেশ দাবরাল , রাজেশ যোশী , পাঞ্জাবি লেখক ওয়ারিয়ম সান্ধু এবং কন্নড় অনুবাদক জে এন রঙ্গনাথ রাও, গুজরাটের অনিল যোশী৷ তাঁদের বক্তব্য , ‘সাম্প্রদায়িকতার বিষ ’ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে চাইছে , এবং ‘গণসাধারণের মধ্যে বিভাজনের আশঙ্কা ’ বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ এখনও পর্যন্ত দেশের ১৬ জন সাহিত্যিক অ্যাকাডেমি পুরস্কার ছাড়ার পথে হাঁটলেন৷ তাঁদের অভিযোগ , এই ধর্মীয় সন্ত্রাসের পরিবেশের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটিও করছে না সাহিত্য অ্যাকাডেমি , অথচ দেশের প্রগতিমূলক সৃষ্টিশীলতার অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অ্যাকাডেমিরই সবার আগে সরব হওয়াটা প্রয়োজন ছিল৷

গতকাল এই সাহিত্যিকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশিষ্ট লেখক সলমন রুশদিও৷ টুইটারে তিনি লেখেন , ‘নয়নতারা সেহগাল এবং অন্যান্য অনেক সাহিত্যিক , যাঁরা সাহিত্য অ্যাকাডেমির উদ্দেশ্যে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন , তাঁদের সমর্থন করি৷ ভারতে মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য এ এক ভয়ের সময়৷ ’ উল্লেখ্য , সাহিত্যে স্বাধীন মতপ্রকাশের জন্য খোদ রুশদিও ধর্মীয় মৌলবাদীদের রোষের শিকার হয়েছেন , এবং এর জেরে ২০১২ সালে জয়পুর সাহিত্য উৎসবেও আসতে পারেননি তিনি৷

----
--