দিনভর অভুক্ত রইলেন পুরীর জগন্নাথদেব

পুরী: সারা দিন খাওয়া হল না জগন্নাথ দেবের। সোমবার সারাদিন অভুক্ত রইলেন তিনি। তাও আবার খোদ পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে। এমনকি রাতের ঘুমও হল না তাঁর। নষ্ট হল অন্তত ৩০-৪০ লক্ষ টাকার খাবার। লক্ষ লক্ষ ভক্তের আবেগে আঘাত লেগেছে এই ঘটনায়। এই ইস্যুতে মঙ্গলবার উত্তাল হয়েছে ওড়িশা অ্যাসেম্বলি।

মঙ্গলবার এই ইস্যুতে ঝামেলা শুরু হয় অ্যাসেম্বলিতে। সমস্যার সমাধানে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছে ওড়িশায়।

সকালে যিনি জগন্নাথ দেবের পুজো করেন, তিনি কোনও কারণে আসতে পারেননি। আর তাঁর কোনও বিকল্পের ব্যবস্থাও ছিল না। তাই সারাদিন পূজাই পাননি জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা। এমনকি ‘মহা প্রসাদ’ও দেওয়া হয়নি তাঁদের।

জানা গিয়েছে, হাইকোর্টের একটি অর্ডারের ভিত্তিতে মন্দির কর্তৃপক্ষ ও পুরীর ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর নির্দেশ দেন, যেসব সেবায়েত গর্ভগৃহে পুজো করেন, তাঁরা বাদে অন্য কোনও সেবায়েত ‘ভিতর কথা’য় প্রবেশ করতে পারবেন না। এই অর্ডারে বিরক্ত হন মন্দিরের সেবায়েতরা। তাই সোমবার এই কারণেই পুজো করতে অস্বীকার করেন অন্য সেবায়েতরা। ফলে রাত পর্যন্ত চলে সেই সমস্যা।

মহা প্রসাদ দেওয়া হয়নি কাউকেই। এমনকি রাতে ভগবানের শোবার সময়ে যে ‘পহদা’ নামে এক বিসেষ রীতি পালন করা হয়, সেতাও হবনি এদিন। লক্ষ লক্ষ টাকার প্রসাদ নষ্ট হওয়ায় বিক্ষোভ শুরু করেন ‘সুর’ ও ‘মহাসুর’ নামে দুই গোষ্ঠী, যারা এই মহাপ্রসাদ তৈরির দায়িত্বে আছে। তাঁর ৫০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।

মন্দিরের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পিকে জেনা সব সেবায়েতদের এই সমসয়ার মেটানোর আর্জি জানিয়েছেন। আগামী ১৯ এপ্রিল এই মামলার শুনানি রয়েছে।

Advertisement
----
-----