জঙ্গলমহলে তৃণমূল নেতা খুনে অভিযুক্ত বিজেপি

স্টাফ রিপোর্টার, পুরুলিয়া: আক্রান্ত তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতির মৃত্যু হল হাসপাতালে ৷ পুরুলিয়ার বরাবাজারের ঘটনা৷ মৃতের নাম আদিত্য সিং মল্ল (৫২)৷ হামলার ঘটনায় অভিযোগের আঙুল বিজেপির দিকে৷ যদিও গেরুয়া শিবির তা অস্বীকার করেছে৷

শনিবার রাতে বরাবাজারের রাজাপাড়ায় ব্লকের তৃণমূল যুব কার্যালয়ে এলাকার প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক চলছিল৷ বৈঠক শেষে প্রার্থী-ছেলে প্রসেনজিৎ সিং মল্লকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আদিত্য সিং মল্ল৷ সেইসময় ঝাড়খণ্ড থেকে প্রায় ছ’টি বাইকে পনেরো থেকে আঠারোজন হাজির হয় সেখানে৷ তাদের মুখে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ছিল বলে অভিযোগ৷

দুষ্কৃতীরা তৃণমূলপ্রার্থী প্রসেনজিৎ সিং মল্লকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারার চেষ্টা করলে বাবা আদিত্যবাবু বাধা দেন৷ তখনই তাঁর বুকে লাথি মেরে দুষ্কৃতীরা ফেলে দেয় বলে অভিযোগ৷ ছিঁড়ে ফেলে দলের কার্যালয়ে থাকা পোস্টার, ব্যানার, পতাকা, ফেস্টুন৷ গুরুতর অবস্থায় আদিত্যবাবুকে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রবিবার দুপুরে সেখানেই মৃত্যু হয়৷

- Advertisement -

এই শনিবার হামলা চলাকালীন তৃণমূল কর্মীরা ছুটে এলে বাইক নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা{ খবর দেওয়া হয় বরাবাজার থানায়৷ ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় পুলিশও আক্রাম্ত হয় বাইকবাহিনীর হাতে৷ জখম হন বরাবাজার থানার দুই পুলিশকর্মী। তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে মোট পাঁচজন বিজেপি নেতা–কর্মীকে গ্রেফতার করেছে বরাবাজার থানার পুলিশ৷

ধৃতদের মধ্যে জনার্দন সিং মোদক ও চন্দন কৈবর্ত বরাবাজার পঞ্চায়েত সমিতির বিজেপি প্রার্থী৷ রবিবার তাদের পুরুলিয়া আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের জেল হেফাজত হয়৷ পুরুলিয়ার পুলিশসুপার জয় বিশ্বাস বলেন, “ তৃণমূল–বিজেপির একটি সঙ্ঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে৷ মামলা রুজু করা হয়েছে। একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। তদন্ত চলছে।” এদিকে ঘটনাস্থল থেকে বরাবাজার থানার পুলিশ পাঁচটি মোটর বাইক-সহ লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা বাজেয়াপ্ত করেছে।

তৃণমূলের পুরুলিয়া জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “বরাবাজারে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা দেখে বিজেপি আতঙ্কিত। তাই এভাবে সন্ত্রাস চালানোর চেষ্টা করছে। সাধারন মানুষ এর জবাব ব্যালটে দেবেন।”

পাল্টা পুরুলিয়া বিজেপি জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, “প্রচারকে কেন্দ্র করে এই ঝামেলা হয়৷ যিনি মারা গিয়েছেন তিনি আগে থেকেই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।” এদিকে এই ঘটনার পর উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা বরাবাজারে৷ এই বাইকবাহিনী বরাবাজার গ্রামপঞ্চায়েতের নারায়নপুর, পাততোড়িয়া, মতিরামডি এলাকার তৃণমূলকর্মীদেরও হুমকি দেয় বলে অভিযোগ।

Advertisement
---