বেজিং : দৌড়ে হারছে কাতার৷ একসময় বিশ্বের ধনীতম দেশ হিসেবে লোকের মুখে মুখে ঘুরত কাতারের নাম৷ কিন্তু এবার তাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে চিনের ম্যাকাও৷ যাকে এখনও চিনের জুয়ার রাজধানী বলা হয়৷

এই জুয়ার রাজধানীর অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে ২০২০ সালের মধ্যে প্রতি বাসিন্দার আয় হবে ১৪৩,১১৬ ডলার৷ আইএমএফ বলছে, সম্প্রতি চিনের ক্যাসিনো হাব ম্যাকাওয়ের জিডিপি বেড়ে কাতারের কাছাকাছি চলে গিয়েছে৷ মনে করা হচ্ছে ২০২০ সালের মধ্যে কাতারকে ছাড়িয়ে যাবে ম্যাকাও।

Advertisement

গত কয়েক বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের গ্যাস সমৃদ্ধ দেশ কাতার বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, এক বছর আগেও কাতারের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৬০০ ডলার।

সেই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল লুক্সেমবার্গ৷ এই জায়গার বাসিন্দাদের জিডিপির পরিমান ছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৩ ডলার। ফলে অনেকটাই এগিয়ে ছিল কাতার৷ এর অবস্থানও নিরাপদ বলেই মনে করা হচ্ছিল৷ কিন্তু ম্যাকাও সবাইকে ফেলে উঠে এসেছে অনেকটাই ওপরে৷ তাই কাতারের আসন টলমল বলেই মনে করা হচ্ছে৷

২০২০ সালের মধ্যে ম্যাকাওয়ের জিডিপি হতে চলেছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ১১৬ ডলার৷ তখন কাতারের জিডিপি হতে পারে ১ লাখ ৩৯ হাজার ১৫১ ডলার। ফলে ফারাকটা চোখে পড়ছে অনেকটাই৷ কাতারকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশে পরিণত হতে চলেছে ম্যাকাও। এমনই ধারণা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷

২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে একটি সমীক্ষা প্রকাশ করে আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক ডেটাবেস৷ সেখানেই এই ফারাকটা স্পষ্ট হয়ে যায়৷ তালিকায় ধনী দেশের দৌড়ে ছিল আয়ারল্যান্ড ও নরওয়েও৷ তবে ২০২০ সালে তারা অনেকটাই পিছনে থাকবে, মনে করা হচ্ছে৷ সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তালিকায় ১২ নম্বরে থাকবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷

কাতারের ধনী হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে এর সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদ। মরুভূমির বালির নিচে লুকিয়ে থাকা বিশাল জ্বালানি ভান্ডারই কাতারের অর্থের যোগানদাতা। তবে, কাতারের শুধু তেলই নয়, আরো একটি সম্পদ প্রচুর পরিমাণে রয়েছে, আর তা হলো প্রাকৃতিক গ্যাস। তবে এসবকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বৈধ জুয়ার রাজধানী ম্যাকাও৷

----
--