চাতকের মতো ইউজিসি অনুমোদনের দিকে তাকিয়ে রবীন্দ্রভারতীর দূরশিক্ষা

দিপালী সেন, কলকাতা: দূরশিক্ষা নিয়ে কঠোর অবস্থান থেকে গত এপ্রিল মাসে সরে এসেছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)৷ মানদণ্ড অনুযায়ী পর্যাপ্ত রেটিং না থাকা যে সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দূরশিক্ষা রয়েছে তাদের দু’বছরের ছাড় দেওয়া হয়েছিল এই কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারক সংস্থার পক্ষ থেকে৷ সেই ছাড়ের জন্য ইতিমধ্যেই দূরশিক্ষা রয়েছে রাজ্যের এমন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই ২০১৮-’১৯ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন করে দিয়েছে৷ কিন্তু, এখনও পর্যন্ত ইউজিসির অনুমোদন পায়নি কোনও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সহ কোনও প্রতিষ্ঠানই৷ এমনটাই জানাচ্ছেন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দেবদত্ত রায়৷

এই বছরেরই ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে দূরশিক্ষা সংক্রান্ত বিধি ২০১৭ সংশোধন করে নতুন বিধি ঘোষণা করে ইউজিসি৷ যেখানে স্পষ্ট ভাবে বলা ছিল, দূরশিক্ষার জন্য যে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাকের মূল্যায়নে ন্যূনতম ৩.২৬ রেটিং থাকতে হবে৷ কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরশিক্ষা থাকলেও, পর্যাপ্ত রেটিং নেই৷ তাই ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ২০১৮-’১৯ শিক্ষাবর্ষে দূরশিক্ষা ব্যবস্থা হারানোর আশঙ্কা ঘনিয়ে এসেছিল৷ একই অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হয়েছিল রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ও৷ কারণ, বর্তমানে ন্যাকের মূল্যায়নে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএ ৩.১০৷

দূরশিক্ষা নিয়ে এই অনিশ্চয়তার সম্মুখীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপাচার্যদের অনুরোধে গোটা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখার জন্য মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ সেই চিঠির জবাবে গত এপ্রিল মাসে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর জানিয়েছিলেন, পরবর্তী ন্যাক পরিদর্শন পর্যন্ত দূরশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারবে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি৷ আর দূরশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয়কে আবেদন করতে হবে৷ সেই অনুযায়ী ২০১৮-’১৯ শিক্ষাবর্ষে দূরশিক্ষা চালু রাখার আবেদন জানিয়েছিল রবীন্দ্রভারতী সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও৷

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার সঞ্জীব দাস বলেন, ‘‘দূরশিক্ষার জন্য আবেদন করা হয়ে গিয়েছে৷ কিন্তু, এখনও পর্যন্ত আমাদের কাছে অনুমোদন আসেনি৷’’ অথচ, অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এই শিক্ষাবর্ষে ভরতি প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে না বিশ্ববিদ্যালয়৷ আর প্রতি বছর পুজোর পরেই রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে দূরশিক্ষার ভরতি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়৷ পুজো আসতে আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন বাকি৷ কিন্তু, আবেদনের পর অনেকটা সময় পার হয়ে গেলেও, এখনও পর্যন্ত ইউজিসি অনুমোদন পায়নি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়৷

তাহলে কী এই বছর রবীন্দ্রভারতীকে দূরশিক্ষার অনুমোদন দেওয়া হবে না? কী আশা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ? উত্তরে সঞ্জীব দাস বলেন, ‘‘আর কিছুদিনের মধ্যেই অনুমোদন চলে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে৷ কারণ, আমাদের তরফ থেকে ইউজিসিতে যাওয়া, অনলাইন আবেদন করা, প্রেজেন্টেশন দেওয়া ইত্যাদি যা যা দরকার ছিল সবই পূরণ করা হয়েছে৷ নিয়ম অনুযায়ী আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সব দিক থেকেই উত্তীর্ণ হয়েছে৷ এবার শুধু অনুমোদনের অপেক্ষা৷’’ তবে, শুধু রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় নয়, কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ই এখনও পর্যন্ত অনুমোদন পায়নি বলে জানাচ্ছেন সঞ্জীব দাস৷ প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৩ হাজার মতো পড়ুয়া থাকে রবীন্দ্রভারতীর দূরশিক্ষায়৷

রবীন্দ্রভারতী ছাড়া রাজ্যের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও ইউজিসির অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে৷ তাদের মধ্যে ন্যাকের মূল্যায়ণে ৩.১২ সিজিপিএ পাওয়া কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, ২.৮৬ সিজিপিএ নিয়ে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ন্যাক রেটিং-এ আবশ্যিক ৩.২৬-এর থেকে কম রেটিং প্রাপ্ত বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে৷ স্বাভাবিকভাবেই রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দূরশিক্ষা রয়েছে এমন প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই এখন ইউজিসির অনুমোদনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে৷

Advertisement
---
-----