সোমনাথ শ্রদ্ধায় রাহুল-কংগ্রেস

নয়াদিল্লি: লোকসভার প্রথম বাঙালি স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে সম্মান জানালেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে শ্রদ্ধা জানাল তাঁর দল ভারতের জাতীয় কংগ্রেস।

সোমবার সাত সকালে পরলোকে গমন করেছেন বিশিষ্ট বাম নেতা সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি লোকসভার সদস্য ছিলেন। শেষ বার জিতেছিলেন বীরভূম জেলার বোলপুর কেন্দ্র থেকে। ২০০৪ সালে ওই কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জেতার পোরেই তিনি লোকসভার অধ্যক্ষ হয়েছিলেন।

প্রয়াত সাংসদ সোমনাথবাবুকে সম্মান জানাতে গিয়ে ট্যুইটারে রাহুল গান্ধী লেখেন, “লোকসভার ১০ বারের সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি একটি প্রতিষ্ঠান ছিলেন। পার্টি লাইনের ঊর্ধ্বে গিয়েও তাঁকে সকল সাংসদেরা সম্মান ও প্রশংসা করতেন। এই বিষাদের সময়ে তাঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।”

ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ট্যুইট করে লেখা হয়, “১০ বারের সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমরা গভীর শোকাহত। কড়া এবং নিরপেক্ষ লোকসভার স্পিকার হিসেবে তিনি সকলের কাছেই প্রশংসিত। তাঁর পরিবারের প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল।”

১৯৭১ সালে প্রথম পঞ্চম লোকসভা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন সোমনাথবাবু। এরপর ১৯৭৭ এবং ১৯৮০ সালেও জিতে ছিলেন তিনি।

সাংসদ হিসেবে হ্যাট্রিক করার পরে ১৯৮৪ সালে হেরে গিয়েছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। যাদবপুর কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পরাস্ত পরাস্ত হন তিনি। প্রবীণ আইনজীবী সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে গোটা দেশের নজর কেড়েছিলেন নবীন মমতা। সেই সময় সংসদে কনিষ্ঠ সাংসদদের মধ্যে ছিলেন বর্তমান তৃণমূল নেত্রী।

এরপরে ১৯৮৫ সালের বোলপুর উপনির্বাচনে জিতে ফের সাংসদ হয়েছিলেন সোমনাথবাবু। তারপর ১৯৮৯ সালেও লোকসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন তিনি। তারপর থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত টানা জিতেছিলেন তিনি। প্রথম দফায় তিন বার, আর শেষে ছয় বার। মোট নয় বার জিতেছিলেন সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়। দশ বার লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু ১৯৮৪ সালে হেরে গিয়েছিলেন।

২০০৪ সালে প্রথম ইউপিএ সরকারকে সমর্থন করে বামেরা। সেই সরকারের স্পিকার হন সোমনাথবাবু। ২০০৮ সালে পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইউপিএ সরকারের উপর থেকে সমর্থন তুলে নেয় বামেরা। সেই সময় সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে স্পিকারের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছিল দলের পক্ষ থেকে। কিন্তু নিরপেক্ষ লোকসভার স্পিকারের পদকে সম্মান জানিয়ে দলের বিরুদ্ধে গিয়েছিলেন তিনি। দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। তারপর থেকে জীবনের অন্তিম দিন পর্যন্ত বহিষ্কৃতই থেকে গেলেন।

Advertisement
----
-----