রাহুলকে তিন মিনিটে তিন প্রশ্নের উত্তর দিলেন কং-নেতারা

দেবযানী সরকার, কলকাতা: সিপিএম না তৃণমূল? কার সঙ্গে জোট? এই ইস্যুতে বাংলায় দলের নেতাদের মধ্যে যে প্রবল মতানৈক্য রয়েছে শুক্রবার তা ভালোই টের পেলেন রাহুল গান্ধী৷ এদিন দিল্লিতে রাজ্য নেতাদের বৈঠকে ডেকেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি৷ সূত্রের খবর, এতদিন যাঁরা সিপিএমের সঙ্গে জোট চেয়েছিলেন শুক্রবার রাহুল গান্ধীর সামনে তাঁদের অধিকাংশই তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেছেন৷ কয়েকজন নেতার পুরোপুরি ‘ইউ-টার্নে’ রীতিমতো অবাক হয়েছেন রাহুল৷

লোকসভা নির্বাচনের আগে দলের সংগঠন কীভাবে মজবুত করা যায় তা আলোচনা করতে দিল্লিতে বৈঠক ডেকেছিলেন রাহুল৷ প্রদেশ কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে ডাক পেয়েছিলেন প্রায় সব শীর্ষনেতাই। প্রদেশ সভাপতি অধীর চৌধুরী, দুই প্রাক্তন সভাপতি সোমেন মিত্র ও প্রদীপ ভট্টাচার্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান তো ছিলেনই। ছিলেন রাজ্যের বর্তমান ও প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদরা ও কংগ্রেস বিধায়করা। এছাড়া সেখানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন বাংলার পর্যবেক্ষক গৌরব গগৈ৷

এদিন প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে কথা বলেছেন রাহুল৷ এক-এক জনের জন্য সময় বরাদ্দ ছিল তিন থেকে পাঁচ মিনিট৷ কংগ্রেস সূত্রের খবর, এদিন মূলত তিনটে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে বাংলার নেতাদের৷

- Advertisement -

এক) সংগঠন নিয়ে তাদের বক্তব্য,

দুই) দলের উন্নতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার প্রস্তাব

তিন) জোট নিয়ে বক্তব্য৷

জানা গিয়েছে, এই তিনটে পয়েন্টের মধ্যে শেষ পয়েন্ট অর্থাৎ জোট নিয়েই বেশি শব্দ খরচ করেছেন দলের নেতারা৷ প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা রাজ্যসভার সদস্য প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তিনটে পয়েন্টে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রথমত, রাহুল গাঁধী জোটের বিষয়ে আমার মতামত জানতে চাইছিলেন। আমি বলেছি, কেউ এখনও জোটের প্রস্তাব আমাদের দেয়নি। এখনই এ নিয়ে মতামত দেওয়া সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, রাহুল গাঁধী সংগঠনের অবস্থা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। আমি বলেছি, সংগঠনের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, বাংলায় কংগ্রেস খুব দুর্বল হয়ে পড়েছে। তৃতীয়ত, তিনি জানতে চেয়েছিলেন, সংগঠন কেন দুর্বল? আমি জানিয়েছি,আমরা বাংলায় ঐক্যবদ্ধ নই বলেই ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছি।’’

সোমেন মিত্রের বক্তব্য ছিল, এই মুহূর্তে ভালো ফল চাইলে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করা উচিত৷ আর দীর্ঘমেয়াদি ভাল ফল চাইলে সিপিএমের সঙ্গে জোট করতে হবে৷ তবে তাতে এই মুহূর্তে দলের ভাল কিছু হবে না৷ অন্যদিকে, জোটের বিষয় নিয়ে সরাসরি সেভাবে কিছু বলেননি দীপা দাশমুন্সি৷ তিনি শুধু সংগঠনে জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন৷ দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালু) তৃণমূলের সঙ্গে জোট চেয়েছেন। উত্তর মালদহের কংগ্রেস সাংসদ তথা মালদহ জেলা কংগ্রেস সভানেত্রী মৌসম বেনজির নূর এদিন বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেও তিনি তৃণমূলের সঙ্গে জোটে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ জানিয়েছেন৷

উল্লেখযোগ্য বিষয়, যাঁদের তৃণমূলে যোগদান ঘিরে জল্পনা চলছিল মুর্শিদাবাদের সেই দুই কংগ্রেস বিধায়ক মইনুল হক ও আখরুজ্জামান এদিন বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন৷ মইনূল হক প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন তিনি তৃণমূলের সঙ্গে জোট চান৷ সূত্রের খবর আখরুজ্জামানও একই মত দিয়েছেন৷ রাজ্যের আর এক কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের পুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের মতামত জানা যায়নি।তবে তৃণমূল বিরোধিতার প্রশ্নে অধীর চৌধুরী এবং আব্দুল মান্নান একই মতামত দিয়েছেন বলে কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে।

Advertisement
---