লন্ডন: দেশের ইতিহাসে শিখ নিধন কালো অধ্যায়৷ যা স্বীকার করতে অসুবিধে হল না কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীর৷ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হত্যা ঘিরে যে তাণ্ডব চলেছিল, তা গণহত্যা ছাড়া কিছুই নয়৷ এই অভিযোগকে সমর্থন করেছেন রাহুল নিজেই৷ জানালেন, তিন হাজার শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না৷ সেই জ্বলন্ত পরিস্থিতির কথা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে রাহুলের৷

২ দিনের ব্রিটেন সফরে আসা রাহুল গান্ধী সেখানকার সংসদীয় সদস্য ও পড়ুয়াদের উপস্থিতিতে শিখ নিধনের নিন্দা করেন৷ জানান, যারা এই হত্যালীলা ঘটিয়েছে তাদের শাস্তি পাওয়াই উচিত৷ ঠাকুমা ইন্দিরাকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল তাঁরই বিশ্বস্ত শিখ নিরাপত্তারক্ষীরা৷ তারপরই পরিস্থিতি ভয়ানক হয়৷ ধরে ধরে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষকে হত্যা করা হয়৷ জ্বালিয়ে দেওয়া হয় সম্পত্তি, বাড়ি, গাড়ি৷ লন্ডনের বিশেষ আলোচনা সভায় প্রশ্ন ওঠে, কাদের নেতৃত্বে দেশে এত বড় হত্যালীলা ঘটেছিল? রাহুলের জবাব, কোনওভাবেই শিখ নিধনে কংগ্রেস দায়ী নয়৷ ঘটনায় শোকাহত, মর্মাহত হলেও কংগ্রেসকে দোষারোপ করতে পিছে হটেছেন বর্তমান কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট৷

পড়ুন:রাহুল নাকি মিস্টার বিন! সোশ্যাল দুনিয়ায় ট্রোলড্ কং-সভাপতি

রাহুলের য়ুক্তি, ‘‘কোনও কারণেই হিংসাকে সমর্থন করা যায় না৷ সে যারাই করুক, তাদের শাস্তিকে আমি ১০০ শতাংশ সমর্থন করি, তবে কোনওভাবেই কংগ্রেসের নেতৃত্বে শিখ নিধন হয়নি৷’’ যদিও, শিখ নিধনের মূলে যাদের নাম উঠেছিল তারা প্রত্যেকেই কংগ্রেস নেতা৷ উল্লেখযোগ্য নাম, সজ্জন কুমার, বলবান খোকার, জগদীশ টাইটলারের মত তৎকালীন কংগ্রেসের সামনের সারির নেতারা৷ অথচ, ১০০ শতাংশ মর্মাহত হলেও ঘটনায় কংগ্রেসের ভূমিকার প্রসঙ্গ সন্তর্পনে এড়িয়ে যান রাহুল৷ বললেন, ‘‘হিংসের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে, হিংসা কখনও দলগত নয়৷’’

আরও পড়ুন:ঘৃণা ছড়িয়ে দেশকে টুকরো টুকরো করতে চাইছে বিজেপি: রাহুল

৭২তম স্বাধীনতা দিবসের আগে লন্ডনে খালিস্তানের দাবিতে শিখ সম্প্রদায়ের মানুষ প্রতিবাদে নামে৷ জানা যাচ্ছে, আইএসআই-এর মদতেই এই মিছিল সংগঠিত হয়৷ মিছিলে অংশ নেননি ভারতীয় শিখ সম্প্রদায়৷ লন্ডনে ৯৫ শতাংশই ভারতীয় শিখ সম্প্রদায়ের৷ মাত্র ৫ শতাংশ ওই মিছিলে অংশ নেন৷ তারা ভারতীয় নন৷ তারাই ওই খালিস্তানের মদতদাতা৷ খালিস্তানের আগুন এখনও বিশ্বব্যাপী বহাল তা জানান দিতেই কি ওই মিছিল? রাহুলের দাবি, শিখ নিধনকে যারা মদত দিয়েছিল তাদের সমর্থনেই পৃথক খালিস্তানের দাবিতে মিছিল হচ্ছে৷ তাই বিষয়টিকে দলগত না বানিয়ে, হিংসার পথ বর্জন করার বার্তা দিতে উৎসাহী রাহুল৷

----
--