মমতার রাজ্যে কৃষকদের বাড়তি নজর দেওয়ার নির্দেশ রাহুলের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: গো-বলয়ে তিন রাজ্যে কংগ্রেসের সাফল্যে নেপথ্যে কৃষকরাই৷ তাই গোটা দেশের কৃষকদের মন জিততে সভাপতি রাহুল গান্ধী এখন মরিয়া৷ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়ে বিপুল জয়ের পর তাঁর নজর এখন দেশের অন্যতম কৃষি প্রধান রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে৷

সিঙ্গুর আন্দোলনে ভর করে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে৷ ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কৃষিপ্রধান রাজ্য বাংলায় নিজেদের পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে গেলে কৃষকদের যে প্রয়োজন তা এই তিন রাজ্যে সাফল্যের পর বুঝেছেন রাহুল৷ তাঁরই নির্দেশে বৃহস্পতিবার সর্বভারতীয় কিষাণ কংগ্রেসের চেয়ারম্যান নানা পটেল কলকাতায় এসেছিলেন৷ প্রত্যেক জেলার কিষাণ কংগ্রেসের সভাপতিদের নিয়ে বিধানভবনে বৈঠক করেন তিনি৷

সূত্রের খবর, সেখানে পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে বাংলার কৃষকদের হয়ে দলকে মাঠে নামতে হবে৷ এরাজ্যেও চাষীরা আত্মহত্যা করছেন৷ সেই ইস্যুগুলি নিয়ে জোরদার আন্দোলন করতে হবে৷ কৃষকদের সচেতন করতে হবে৷

দিল্লির নির্দেশ পেয়েই বাংলার কিষাণ কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে গিয়েছিলেন৷ কয়েকদিন আগে সেখানে আম্বিয়া মল্লিক নামে এক আলুচাষী আত্মহত্যা করেন৷ পরিবারের দাবি, আলু চাষে লোকসান ও দেনা শোধের দুশ্চিন্তায় তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন৷ আত্মঘাতী আলু চাষীর পরিবারের পাশে দাঁড়ান কংগ্রেসের কৃষক শাখার নেতৃত্ব৷

পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে সময় কৃষি ঋণ মুকুবের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৃষকদের মন জিতে নিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী৷ ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি রেখেছেন তিনি৷ শুধু তাই নয়, কৃষি ঋণ মুকুবের জন্য পরোক্ষে অন্য রাজ্যগুলির উপরও চাপ বাড়াচ্ছেন রাহুল৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চাপে ফেলার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যে তাঁর নিশানায় তা কিষান কংগ্রেসের নড়াচড়াতেই স্পষ্ট৷ মনে করছে রাজনৈতির পর্যবেক্ষকরা৷

----