উত্তরের বন্য পরিস্থিতির জেরে বিপর্যস্ত রেল পরিষেবা

শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গে প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত জনজীবন৷ দিনে দিনে তীব্র আকার নিচ্ছে বন্য পরিস্থিতি৷ কোচবিহার তোরষা নদীতে জল বিপদ সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে৷ উত্তরবঙ্গে প্রবল বৃষ্টির জেরে তিস্তা উপকুলে এখনও পর্যন্ত জলপাইগুড়ি জেলায় ঘরছাড়া প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দা৷

উত্তরের বন্য পরিস্থির জেরে ডুয়ার্স-এনজেপি-অসম রুটে বিপর্যস্ত ট্রেন পরিষেবা৷ বাতিল একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেন৷ ঘুর পথে ট্রেন চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলেও বেশিভাগ ট্রেনই বাতিল বলে ঘোষণা করেছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ৷জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মহানন্দা লিঙ্ক এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ময়নাগুড়ি, ধূপগুড়ি, ফালাকটা রুট দিয়ে আলিপুরদুয়ার জংশন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

sldপ্রচণ্ড বৃষ্টিতে জল বাড়ছে কোচবিহার জেলার বিভিন্ন নদী গুলিতে। ইতোমধ্যে জেলার নদী তীরের বিভিন্ন নিচু জায়গায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। কোচবিহার শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় তোরষা নদীর জল ঢুকে নদীর তীরবর্তী এলাকায় বেশ কিছু বাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে। এই এলাকায় তোরষা নদীর জল বাড়ছে। অন্যদিকে, জেলার অন্যান্য নদীগুলি এখনও কোন সতর্কতা থাকলেও বৃষ্টি না কমলে জল বাড়তে পারে বলে অনুমান করছে সেচ দফতর। সেই মতো প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছে সেচ দফতর। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ইতোমধ্যে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিমকে তৈরি রাখার পাশাপাশি জেলার সমস্ত এলাকার স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে।

পাহাড়ের সঙ্গে সমতলের বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় অসংরক্ষিত এলাকায় জারি হল হলুদ সংকেত। সেই সঙ্গে জলপাইগুড়ি শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া করলা নদীর জল বেড়ে যাওয়ায় বানভাসি শহরের নদী সংলগ্ন বেশকিছু নিচু এলাকা। অপরদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে বিপর্যস্ত জলপাইগুড়ি সেচ দফতরের কন্ট্রোল রুম। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে দফতরের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আপলোড সহ কলকাতার সদর দফতরে কোন তথ্যই আদানপ্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। তিস্তায় অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সংকেত জারি হলেও তিস্তা বাঁধের পরিস্থিতি যথেষ্টই ভালো রয়েছে বলে সেচ দফতর থেকে জানানো হয়েছে।

Rail-services-disrupted-dueজল নিকাশির সমস্যা থাকায় বৃষ্টির জমা জলে আটকে পড়েছেন মহামায়াপাড়া, পান্ডাপাড়া, নিউসার্কুলার রোড এলাকার কয়েক হাজার মানুষ। অপরদিকে শহরের মাঝখানদিয়ে বয়ে যাওয়া করলা নদীর জলস্তর বেরে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে জলপাইগুড়ি পুরসভার পরেশ মিত্র কলোনির বেশকিছু নদী সংলগ্ন নিচু এলাকা। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন কয়েকশো মানুষ। গবাদিপশু এবং বাড়ির যাবতীয় আসবাবপত্র নিয়ে রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। ২৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার পরিমল মালোদাস জানিয়েছেন, বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য পানীয় জল এবং ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ধূপগুড়ি ব্লকের বিন্নাগুড়ি এলাকায় হড়কাবানে হাতিনালার জল ঢুকে পড়ায় প্লাবিত হয়েছে বিন্নাগুড়ির সুভাষনগর, নেতাজীপাড়া, এম এস কলোনি এবং লক্ষীপাড়া চা বাগানের মসজিদ লাইনে। বন্যার জলে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ৭০০ জন। ইতিমধ্যে বন্যা দুর্গতদের জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করেছে স্থানীয় ব্লক প্রশাসন। মালবাজার মহকুমার চাঁপাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকা বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে গত কাল রাত থেকে। তিস্তার জলে প্লাবিত হয়েছে চাঁপাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসুসুবা, কেরানি পারা, মাষ্টারর্পারা প্রভৃতি এলাকা। অনেকেরেই ঘরবাড়ি জলের স্রোতে ভেসে গেছে বলে এলাকার মানুষের অভিযোগ। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৪০০০ মানুষ। বেশির ভাগ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বাধের উপর। সোমবার রাত থেকে এক টানা বৃষ্টির চলছেই৷ ফলে ডুয়ার্সের সমস্ত নদীতে জল বেড়েছে। বর্তমানে গাজলডোবায় তিস্তার ১১ টি লকগেট খোলা রয়েছে। তিস্তায় জল বাড়লে আরও গেল খোলা হতে পারে বলে ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৮৬৫ কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে গাজোলডোবার তিস্তায়। অন্যদিকে মালবাজারে রেলের আন্ডার পাসে জল জমে যাওয়ায়, অই আন্ডার পাস দিয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। সকালে এই আন্ডার পাসে জলের জন্য আটকে পরে একটি স্কুল গাড়ি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

সেচ দফতরের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জলপাইগুড়িতে ১২৯ মিমি, শিলিগুড়িতে ১১৬ মিমি, হাসিমারায় ৩০৪ মিমি, মালবাজারে ১১৭ মিমি এবং বানারহাটে ৩৩৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে৷ বাগডোগরায় ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি ২৪০ মিলিমিটার৷ এর সঙ্গে মঙ্গলবার সকাল থেকে দেড় হাজার কিউমেক জল ছাড়ায়ুসুবা এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত পড়ে৷