জয়সলমির: পোখরানে গুপ্তচর সন্দেহে যে প্রাক্তন ফৌজি ধরা পড়েছে, তাকে হাওয়ালার মাধ্যমে মোটা টাকা দিত পাক সামরিক গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)৷ প্রাথমিক জেরায় এমনটাই জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা৷ রবিবার এই প্রাক্তন নন কমিশনড ফৌজি, হাবিলদার (সার্জেন্ট) গোর্ধন সিং রাঠোরকে গ্রেফতার করে রাজস্থান অ্যান্টি-টেররিস্ট স্কোয়াড (এটিএস), উত্তরপ্রদেশ এটিএস, বর্ডার ইন্টেলিজেন্স এবং জয়সলমির পুলিশের যৌথ বাহিনী৷ সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে এই গোর্ধন পোখরান পরমাণু পরীক্ষা কেন্দ্রের অদূরবর্তী গ্রাম খেতোলাইয়ের পঞ্চায়েতে ‘পাটোয়ারি’ বা হিসাবরক্ষকের কাজ করত৷ গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, হাওয়ালায় প্রচুর পরিমাণে অর্থপ্রাপ্তির বিনিময়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মহড়া সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোর্ধন আইএসআইয়ের হাতে তুলে দিয়েছে৷
শুধু গোর্ধন নয়, তদন্তের স্বার্থে তারা রাম নামে রাজস্থানের এক রাজস্ব ইনস্পেকটরকেও নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা বাহিনী পাকড়াও করেছে৷ গোয়েন্দাদের সন্দেহ, এই চক্রান্তে তারা রামও জড়িত৷
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (VoIP) প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে গত দু’ বছর যাবৎ গোর্ধন বহু তথ্যই আইএসআইকে পাঠিয়েছে৷এবং, বিনিময়ে প্রচুর পরিমাণে অর্থও যে গোর্ধনের হাতে এসেছে তার পাকা প্রমাণ মিলেছে৷এ ব্যাপারে প্রথম হদিশ পায় উত্তরপ্রদেশের এটিএস৷এক ব্যক্তির কাছ থেকে তারা জানতে পারে, হাওয়ালা মারফত মোটা টাকা কামাচ্ছে প্রাক্তন হাবিলদার গোর্ধন৷
বর্ডার ইন্টেলিজেন্সের একটি সূত্র জানিয়েছে, গোর্ধনকে সরকারি গোপনীয়তা আইনের আওতায় গ্রেফতার করা হয়েছে৷ পোখরান পুলিশ স্টেশনে আপাতত তার নামে একটি মামলা রুজু করে আরও ভালোভাবে জেরা করার জন্য জয়পুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ দুঃখের বিষয়, গোর্ধনের ছেলেও এখন সেনাবাহিনীতে কর্তব্যরত৷ যে রকমটা এদেশে বহু ফৌজি পরিবারের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে৷হয়তো সে তার বাবার এই কীর্তিকলাপের কথা জানেনই না৷

----
--