সরকারি স্কুলে সাধু-সন্তদের ভাষণ শোনাবে বিজেপি

জয়পুর: এবার স্কুলেও শুনতে হবে সাধু-সন্তদের বক্তব্য। এমনই নির্দেশিকা জারি হল রাজস্থানের স্কুলে।

বিজেপি শাসিত ওই রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে এক্সট্রা-ক্যারিকুলার অ্যাকটিভিটি হিসেবে প্রতি মাসের তৃতীয় শনিবার করে স্থানীয় ‘সন্ত-মহাত্মাদের’ ভাষণের আয়োজন করা হবে। সরকারি স্কুলের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ক্যালেন্ডারেই এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এমনিতে সব শনিবার স্কুলে স্কুলে হবে ‘বাল সভা’। তার মধ্যেই তৃতীয় শনিবার জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে। ওইদিন কোনও বিরাট নামী মানুষ বলবেন বা স্থানীয় সাধু-সন্তরা পড়ুয়াদের সামনে বলবেন বলে জানানো হয়েছে।

ক্যালেন্ডারে বলা হয়েছে, সকালের প্রার্থনার পর জিরো আওয়ারের সময়ও বাল সভায় এই বক্তৃতা করা যেতে পারে।

- Advertisement -

সব জেলার এডুকেশন অফিসারদের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ক্যালেন্ডার পাঠিয়েছেন সেকেন্ডারি এডুকেশন বিভাগের ডিরেক্টর যাতে সরকারি স্কুলে ঘোষিত কর্মসূচীগুলি ঠিকমতো পালিত হয়।

মাসের প্রথম শনিবার স্কুলে স্কুলে পড়ুয়াদের নামী-দামী ব্যক্তিদের জীবনী পড়ে শোনানো হবে। দ্বিতীয় শনিবার অনুপ্রেরণা দেওয়ার, নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার গল্প পাঠ করা হবে। চতুর্থ শনিবার হবে ক্যুইজ। পঞ্চম শনিবার নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার নাটকের অভিনয়, জাতীয়তাবাদী গানও হবে।
কিছুদিন আগে, বিতর্কিত মন্তব্য করেন রাজস্থানের শ্রমমন্ত্রী যশবন্ত সিং যাদব। একটি জনসভায় তিনি বলেন, হিন্দু হলে ভোট আমায় দিন আর মুসলিম হলে কংগ্রেসকে। তাঁর এই বক্তব্য সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

যশবন্ত সিং শুধু বসুন্ধরা রাজে সরকারের মন্ত্রীই নন, অলওয়ার কেন্দ্রের লোকসভা উপনির্বাচনের বিজেপি প্রার্থীও তিনি৷ ফলে তাঁর এই মন্তব্যে স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়ে গেরুয়া শিবির৷ তাঁর এই মন্তব্যের পিছনে অবশ্য জলগণের সমর্থন আছে বলে দাবি করেছেন তিনি৷ তাঁর আরও দাবি নির্বাচনী প্রচারে তিনি মেওয়াটে গিয়ে এই তথ্য তুলে এনেছেন তিনি৷

এরআগে, বিতর্ক তৈরি করেন রাজস্থানের অলওয়ারের বিধায়ক বনওয়ারি লাল সিংঘল৷ তাংর দাবি ছিল, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই একাধিক সন্তান উৎপাদন করেন মুসলিমরা৷ তাঁর মতে হিন্দুদের পিছনে ফেলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়াই এই কাজের লক্ষ্য৷ তাঁর আরও সংযোজন ছিল, নিজেদের সম্প্রদায়ের সংখ্যা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ মুসলিমদের৷ তিনি জানিয়েছিলেন, ২০৩০ সালের মধ্যেই সংখ্যায় হিন্দুদের ছাড়িয়ে এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠবে মুসলিমরা৷

Advertisement ---
---
-----