নয়াদিল্লি : প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে খুন করেছে যারা, তাদের কোনওভাবেই মুক্তি দেওয়া যাবে না৷ যদি তা করা হয়, তবে নৃশংসতাকে মান্যতা দেওয়া হবে৷ বিচারব্যবস্থার প্রতি ভরসা হারাবেন সাধারণ মানুষ৷ তাই রাজীব হত্যাকারীদের যেন কোনওভাবেই ক্ষমা করা না হয়, তার আবেদন করল কেন্দ্র৷

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টকে কেন্দ্র জানায়, যে সাতজন অপরাধী রাজীব গান্ধীর হত্যার অপরাধে জেলে রয়েছে, তাদের সাজা কমানো না হয় বা মুক্তি দেওয়া যাবে না৷ তাদের ক্ষমা করা হলে গোটা বিশ্বের কাছে ভারত সম্পর্কে ভুল বার্তা যাবে৷

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর খুনীদের ক্ষেত্রে কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ, এটা একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে খুনের ঘটনা৷ তাই বিচারবিভাগকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে৷ তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই আপত্তি করায় কেন্দ্র এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর৷

এরআগে, তামিলনাড়ু সরকার ওই সাতজন বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানায়৷ ২০১৫ সালে এই দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তামিলনাড়ু সরকার৷ এ ব্যাপারে শুনানি শুরু করে কেন্দ্রের বক্তব্য জানতে চায় আদালত। এবার তারই জাবাব দিল মোদী সরকার।

গত ২৭ বছর ধরে জেলে বন্দী রাজীব হত্যাকারীরা৷ কেন্দ্র নিজেদের স্বপক্ষে বক্তব্য রাখতে একটি রিপোর্টও তৈরি করে৷ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তৈরি করা ওই রিপোর্টে রাজীব গান্ধীর হত্যাকে দেশের সবচেয়ে ঘৃণ্য ও ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড বলে বর্ণনা করেছে৷ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে ১৬ জন নিরপরাধ মানুষের প্রাণ গিয়েছিল ওই বিস্ফোরণে৷ প্রাণ হারিয়েছিলেন নিরাপত্তা কর্মীরা৷

১৯৯১ সালে বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়ে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী৷ এই ঘটনায় অভিযুক্তরা হল পেরারিভালান, মরুগান, সান্তন, নলিনী শ্রীহরণ, রবার্ট প্লাওস, জয়কুমার এবং রবীচন্দ্রন।

অপরাধীদের অনেকেই আগাম মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছিল৷ কিন্তু মাদ্রাজ হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেয়৷ ২০১৪ সালে পেরারিভালান ১৪ বছর জেল হেফাজতে কাটানোয় তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা যাবজ্জীবন সাজায় পরিবর্তন করে দেশের শীর্ষ আদালত৷ সেই হত্যাকাণ্ডের পেছনে শ্রীলঙ্কার তামিল জঙ্গি সংগঠন এলটিটিই-র হাত ছিল বলেই ধারণা করা হয়।

এরআগে, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী জানান, তিনি ও তাঁর বোন দিদি প্রিয়াঙ্কা তাদের বাবার হত্যাকারীদের সম্পূর্ণভাবে ক্ষমা করে দিয়েছেন।

----
--