রাখির জোরেই যুদ্ধক্ষেত্রে কোনও আঘাত লাগেনি আলেকজান্ডারের

রাখিবন্ধন উৎসব বা রাখিপূর্ণিমা ভারতের একটি উৎসব। এটি হল ভাই ও বোনের মধ্যে প্রীতিবন্ধনের উৎসব। হিন্দুদের পাশাপাশি জৈন ও শিখরা এই উৎসব পালন করে। এই দিন দিদি বা বোনেরা তাদের ভাই বা দাদার হাতে রাখী নামে একটি পবিত্র সুতো বেঁধে দেয়।

এই রাখীটি ভাই বা দাদার প্রতি দিদি বা বোনের ভালবাসা ও ভাইয়ের মঙ্গলকামনা এবং দিদি বা বোনকে আজীবন রক্ষা করার ভাই বা দাদার শপথের প্রতীক। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব উদযাপিত হয়। ইতিহাসেও ফিরে ফিরে এসেছে এই রাখিবন্ধন উৎসব৷

১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বাঙালিকে দুর্বল করতে যখন বাংলাকে ভাগ করার পরিকল্পনা করেন তখন তারই প্রতিবাদে শুরু হয় বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন৷ যার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল রাখি বন্ধন উৎসব যার অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি প্রস্তাব রাখেন –১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বাঙালির ঐক্য তুলে ধরতে রাখিবন্ধন উৎসব পালন করা হবে৷ ওইদিন কোনও বাড়িতে রান্নাবান্না হবে না এবং বাঙালি জনসাধারণ অরন্ধন পালন করে উপোষ করবেন। সেই সময় কার্জন সিমলা থেকে ঘোষণা করেছিলেন ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকরী হবে৷ তারই প্রতিবাদে ওই দিনচি বাঙালির ঐক্য দেখাতে রাখিবন্ধনের ডাক দেওয়া হয়েছিল৷ ওইদিন সকালে রবীন্দ্রনাথকে সামনে রেখে বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আপামর জনসাধারণ এক বিরাট শোভাযাত্রা করে গঙ্গাতীরে সমবেত হন। তারপরে গঙ্গাস্নান করে পরস্পরের হস্তে রাখি পরিয়ে দিতে থাকেন এবং শোভাযাত্রা করে এগোতে থাকেন।

- Advertisement -

আবার চিতোরের বিধবা রানি কর্ণবতী মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের সাহায্য প্রার্থনা করে একটি রাখী পাঠিয়েছিলেন। আবার কথিত আছে, ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করলে আলেকজান্ডারের স্ত্রী রোজানা রাজা পুরুকে একটি পবিত্র সুতো পাঠিয়ে তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন আলেকজান্ডারের ক্ষতি না করার জন্য। তিনি রাখিকে সম্মান করতে যুদ্ধক্ষেত্রে তিনি নিজে আলেকজান্ডারকে কোনও আঘাত করেননি৷ তাছাড়া সম্প্রীতি রক্ষার্থে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করতে দেখা যায়৷

Advertisement ---
---
-----