সমুদ্র মন্থন থেকে রাম-রাবণের লড়াইয়ে জমজমাট দেবীপক্ষ

স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া : বরাবরই হাওড়া উত্তর থেকে শুরু করে বালি অঞ্চলের বেশ কয়েকটি পুজো দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে। এবারেও রীতিমতো চমক দিতে তৈরি তারা। আর সেই তালিকায় এগিয়ে রয়েছে সালকিয়া সংস্কৃতি সংঘের পরিচালনায় দুর্গাবাড়ির মহাপুজো৷ ৫৪ তম বছরে এবার তাঁদের থিম চকের তৈরি দুর্গা৷ কয়েক লক্ষ চক দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এই প্রতিমা।

ক্লাবের সদস্যরা জানান, হাওড়া জেলায় এই প্রথম এমন অভিনব প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে৷ কেন এই থিম? ক্লাবের সদস্যরা বলছেন, ‘‘চক আমাদের স্নিগ্ধতার ছোঁয়া দেয়। চকের মধ্যে যে শুভ্রতা থাকে, তা আমাদের মননে শান্তির বার্তা দেয়। সাদা রঙ হল শুভ্রতা। রামধনুর সাত রঙের সমাহার। তাই এর মাধ্যমে আমরা মানুষের জীবনে কিছু রঙ ফিরিয়ে আনতে চলেছি।’’ ইন্ডিয়ান আর্ট কলেজের শিল্পী শুভজিৎ পালের ভাবনায় অভিনব এই চকের প্রতিমা এবার নজর কাড়বেই বলে দাবি ক্লাব কর্তা সৌমেন্দু চট্টোপাধ্যায়, সুশান্ত দলুই, কৌশিক গুপ্তাদের।

অন্যদিকে সালকিয়া স্কুল রোডের চিলড্রেন পার্কে প্রতি বছরের মতো এবারও মণ্ডপ গড়ে তুলেছেন সালকিয়া ছাত্র ব্যায়াম সমিতির পুজো উদ্যোক্তারা। এবার মণ্ডপে তাঁরা সমুদ্র মন্থনের দৃশ্যপট তুলে ধরতে চলেছেন। পুজো উদ্যোক্তা পুলক শিকদার বলেন, ‘‘পাশ্চাত্য সংস্কৃতির বিষে বাঙালিয়ানা আজ বিপন্ন। বাঙালি আজ নিজের সংস্কৃতি ভুলতে বসেছে। অনর্গল পান করছে পশ্চিমী কালচারের বিষ। হেলায় তারা ত্যাগ করছে অমৃত। আমরা মণ্ডপে তারই একটি ছবি তুলে ধরব। পাশাপাশি অখণ্ড বাঙালিয়ানা ও বাঙলার সংস্কৃতি দেখা যাবে আমাদের মণ্ডপে। সালকিয়ার ত্রিপুরা রায় লেনের আলাপণীর পুজোর এবার ৭০ তম বর্ষ। এবছর তাদের থিম ‘করলে নারীর মান হরণ, নষ্ট পুরী সোনার বরণ’।

ক্লাবের উদ্যোক্তারা বলেন, ‘‘বাল্মিকী রচিত রামায়ণে রাম-রাবণের যে ভয়ঙ্কর যুদ্ধের উল্লেখ আছে, তার মূলে ছিল নারীর অবমাননা। অথচ এই সময়েও সেই মহাকাব্যিক অভিজ্ঞতাকে উপেক্ষা করে আমরা সর্বনাশের পথে এগিয়ে চলেছি। তাই আবার জরুরি হয়ে পড়েছে ওই মহাকাব্যিক ঘটনাকে স্মরণে আনা। এই উদ্দেশ্যেই আলাপণী এবছর উৎসব প্রাঙ্গণে রামায়ণের রূপজগৎ তুলে ধরতে চলেছে।’’

উত্তর হাওড়ার ব্যানার্জিবাগান দুর্গোৎসব কমিটি এবার ৩৩ তম বর্ষে থিমে চমক দিতে চায় না৷ তারা এবার চমক দিতে চায় প্রতিমায়। ক্লাব সদস্য লাল্টু রায় ও নবীন সরকার বলেন, ‘‘এবার আমরা নবরূপে দুর্গা দর্শনার্থীদের কাছে তুলে ধরতে চলেছি। কৃষ্ণনগরের প্রখ্যাত ভাস্কর সুবীর পাল তৈরি করছেন এই সনাতনী নয়নাভিরাম প্রতিমা।’’

পাশাপাশি, বালির সাঁপুইপাড়া রবীন্দ্রপল্লী দুর্গোৎসব কমিটির পুজো এবার পা দিল ৬৪তম বর্ষে। পুজোর বাজেট প্রায় ৭ লক্ষ টাকা। বালি এলাকার অন্যতম জনপ্রিয় পুজো সাঁপুইপাড়া রবীন্দ্রপল্লী দুর্গোৎসব কমিটি এবার তাদের থিম উৎসর্গ করেছেন সদ্য প্রয়াত লোকশিল্পী কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্যকে৷ দোহারের স্রষ্টাকে উৎসর্গ করে তাদের থিম ‘তোমায় হৃদ মাঝারে রাখব ছেড়ে দেব না’। তাই কালিকাপ্রসাদের সঙ্গীত জীবন নিয়ে বিভিন্ন মডেল থাকছে মণ্ডপে। পুজো উদ্যোক্তারা মনে করছেন এবারও দর্শনার্থীদের মন কাড়তে পারবেন তাঁরা।

Advertisement
----
-----