কোথা থেকে এল ভারতের এই গহ্বর? উত্তর পেলেন বিজ্ঞানীরা

জয়পুর: রামগড়ের রহস্য অবশেষে উন্মোচন করলেন গবেষকেরা। এক বিশাল গহ্বর পাওয়া গিয়েছিল রাজস্থানের রামগড়ে। ১৯ শতকে ওই গহ্বর আবিষ্কার হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছিল। ৩.২ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের ওই গহ্বর আসলে উল্কাপাতেই তৈরি হয়েছিল বলে জানালেন বিজ্ঞানীরা।

টানা বেশ কয়েক বছর গবেষেণা চালানোর পর এমনই দাবি করলেন ভূ-বিজ্ঞানীরা। জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া এবং ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচার হেরিটেজের উদ্যোগে গঠিত চার সদস্যের একটি দল ওই আগ্নেয়গহ্বর পরিদর্শনে যায়। সেখান থেকে তারা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে। সেইসব খতিয়ে দেখেই বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন যে, রামগড়ের আগ্নেয়গহ্বর সৃষ্টি হয়েছে বিশাল উল্কা পতনের জেরে।

ওই দলে থাকা ভূ-বিজ্ঞানী তথা অধ্যাপক বিনোদ আগরওয়াল বলেছেন, ৭৫ হাজার কোটি বছর আগে রামগড়ের ওই এলাকায় বিশাল আকারের একটি উল্কা পড়ে ছিল। যার ব্যাস ছিল প্রায় তিন কিলোমিটার। সেটি পড়ার ফলে যে টিলার সৃষ্টি হয়েছে তার উচ্চতা প্রায় ২০০ মিটারেরও বেশি। শুধু তাই নয়, উল্কা পতনে তৈরি হয়েছিল চার কিলোমিটার ব্যাসের একটি গভীর খাতও। সেটাই এখন আগ্নেয়গহ্বরের রূপ নিয়েছে।

- Advertisement -

ভারতে এই ধরনের দু’টি আগ্নেয়গহ্বর রয়েছে। আর একটি হল লুনার লেক, যেটি মহারাষ্ট্রের বুলধানা জেলায় অবস্থিত। আর একতি রয়েছে মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলায়। ভূ-বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, রামগড়ের ওই আগ্নেয়গহ্বরটি জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার প্রথম নজরে আসে ১৮৬৯ সালে। ১৯৬০ সালে জিওলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডনের তরফে সেটিকে ‘আগ্নেয়গহ্বর’ হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর থেকেই চলছিল গবেষণা। অবশেষে সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন বিজ্ঞানীরা।

Advertisement
---