স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: রামকেল মেলার সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস৷ গৌড় বাংলার শতাব্দী প্রাচীন মেলা এটি৷ সুলতানি আমলের ইতিহাসে সমৃদ্ধ এই রামকেল মেলা৷

কথিত আছে, জ্যৈষ্ঠ সংক্রান্তির পূণ্য তিথিতে বৃন্দাবন যাওয়ার পথে বর্তমান মালদহ তথা বাংলার তখনকার রাজধানী গৌড় বাংলার রামকেলিতে এসেছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু৷ শহরের প্রাণকেন্দ্র বৃন্দাবনী ময়দানের আম বাগানে বিশ্রাম নেন তিনি৷ যা বর্তমানে বৃন্দাবনী ময়দান নামে পরিচিত৷ সেখান থেকেই তিনি গিয়েছিলেন সীমান্ত লাগোয়া রামকেলি ধামে৷

Advertisement

আরও পড়ুন: ডেপুটেশন ঘিরে ঝামেলায় জড়াল ABVP-TMCP

১৫১৫ সালের জুন মাসে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু গৌড়ের রামকেলি গ্রামে এসেছিলেন৷ ইতিহাস তেমনটাই বলে৷ ষড় গোস্বামীর সনাতন গোস্বামী ও রূপ গোস্বামী রামেকলিরই বাসিন্দা ছিলেন৷ রামকেলি গ্রামে শ্রীচৈতন্যের সেই পদার্পণের মাহেন্দ্রক্ষণকে মনে রেখে প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের সংক্রান্তিতে এক মহামেলার আয়োজন করা হয় রামকেলিতে৷ যা রামকেলির মেলা নামেই গৌড়বঙ্গে পরিচিত৷

মালদহের সবচেয়ে প্রাচীন মেলা৷ বর্তমানে এই মেলার সঙ্গেই শ্রী শ্রী মদনমোহন জিউ-এর বার্ষিক উৎসবও অনুষ্ঠিত হয়৷ পঞ্চরত্ন মন্দিরে মহা ধুমধাম করে মদনমোহন ও রাধারানির পুজো হয়৷ মদনমোহন মন্দির ছাড়াও বেশ কিছু স্থায়ী ও অস্থায়ী আখড়া ঘিরে জমে ওঠে পনেরো দিনের মেলা৷

আরও পড়ুন: বাড়ি থেকে পালানোর ছক বানচাল করল আরপিএফ

পূজার্চনার পাশাপাশি ২৪ প্রহর কীর্তনের আসর বসে৷ কোথাও আখড়া খোলেন বাউলরা৷ আবার কোথাও মালদহের ঐতিহ্যশালী গম্ভীরা গান হয়৷ কীর্তন যেমন বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সাধন ভজনের মাধ্যম৷ তেমনি পদাবলী সাহিত্য ও কীর্তন বঙ্গ সংস্কৃতির এক ঐতিহ্যশালী উপাদান৷ আর কীর্তন এই উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ৷ এদিন মেলার উদ্বোধনী মঞ্চে ছিলেন জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য, জেলার পুলিশ সুপার অর্ণব ঘোষ-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা৷

মালদহ শহর থেকে দূরত্ব মাত্র দশ কিলোমিটার৷ তবে এই মেলা কিন্তু পুরোদস্তুর গ্রামীণ মেলা৷ মাটির গন্ধ এ মেলার পরতে পরতে৷ গ্রামের মানুষদের চাহিদা মেটাতে, তাঁদের পছন্দমতো পসরা নিয়ে ব্যবসায়ীরা হাজির হন মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, কলকাতা থেকে৷ একদিকে থাকে পশমশিল্পী ও ব্যবসায়ীদের পসরা৷ অন্যদিকে শীতলপাটির সম্ভার, নিত্যনতুন খোল ও বাদ্যযন্ত্রের মেলা৷

আরও পড়ুন: টাকার বিনিময়ে ভর্তির প্রতারণা কলেজে, ধৃত এক

মালদহের মেলা৷ তার উপর আমের মরসুম৷ মেলার মূল আকর্ষণ কিন্তু মালদহের আমও বটে! মেলা দেখতে পার্শ্ববর্তী মুর্শিদাবাদ কিংবা দুই দিনাজপুর থেকে যেমন মানুষ আসেন৷ তেমনি শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, বীরভূম, নদিয়া থেকেও বহু লোক আসেন এই মেলায়৷ প্রতি বছর কয়েক লক্ষ মানুষের আনাগোনা হয় এই মেলায়৷ আসেন বহু সাধুসন্তরাও৷ তবে মেলাটি যেহেতু সীমান্তবর্তী এলাকায়৷ তাই কড়া নিরাপত্তায় মোড়া থাকে মেলাপ্রাঙ্গণ৷ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আরও বেশি করে সর্তক থাকতে হয় সীমান্তরক্ষীদের৷

আরও পড়ুন: উত্তপ্ত কাশ্মীরে সেনার গুলিতে মৃত যুবক, জখম মহিলা

ইংরেজবাজারের বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘‘মালদহের এই প্রাচীন মেলায় রাজ্য সরকার হস্তক্ষেপ করার পর থেকে তার আকর্ষণও আরও বেড়ে গিয়েছে৷ পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য মহাপ্রভুর দর্শন একমাত্র পথ৷ এই মেলার ঐতিহ্য ও বাণী বিশ্বের প্রত্যেক জায়গায় পৌঁছবে৷’’ অন্যদিকে পুলিশসুপার অর্ণব ঘোষ বলেন, ‘‘জেলার ঐতিহ্যপূর্ণ মেলা তাই পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্বও অনেক৷ আমরা সবসময় সে দিকটি খেয়াল রেখে চলেছি৷’’

আরও পড়ুন: শ্মশানে নিয়ে আসার পর নড়ে উঠল দেহ…তারপর

----
--