বাস্তবের ‘ইডিয়ট’ ব়্যাঞ্চো পেলেন ‘ম্যাগসেসে’

ম্যানিলা: থ্রি ইডিয়টস্৷ আমির-মাধবন-শরমন এই ট্রায়ো যে ঝড় তুলেছিলেন সিলভার-স্ক্রিনে তা ভোলার নয়৷ বিশেষ করে Phunsukh Wangdu-র চরিত্রে আমির যে অভিনয় করেছিলেন তা শিক্ষাবিদ Sonam Wangchuk-কে মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছিল৷

ছবিতেও যেভাবে ব়্যাঞ্চো ওরফে ফুনসুখ ওয়াংড়ু তার প্রতিভা, কাজের জোরেই লক্ষ-কোটির ভিড়ে অন্য জায়গা করে নিয়েছিল, বাস্তবের মাটিতেও ছবিটা একই রকম৷ কেন? কারণ বাস্তবের এই চরিত্রের হাত ধরেই এবার ভারতের মাথায় উঠল সম্মানের তাজ৷ এবছর রামোন ম্যাগসেসে সম্মান পাচ্ছেন দুই ভারতীয়৷ যার মধ্যে শিক্ষাবিদ Sonam Wangchuk একজন৷

- Advertisement -

১৯৫৭ সালের এপ্রিল মাসে প্রবর্তিত হয় এই সম্মান। প্রবর্তন করেন নিউইয়র্ক শহরের রকফেলার ব্রাদার্স ফান্ড এর সম্মানিত ট্রাস্টিবৃন্দ। এই পুরস্কারটির প্রবর্তন করা হয় ফিলিপাইনের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট রামোন ম্যাগসেসেকে স্মরণ করে।

এশিয়ার নোবেল পুরস্কার হিসেবে বিবেচনা করা হয় রামোন ম্যাগসেসে সম্মানকে৷ সেই সম্মানপ্রাপকের তালিকায় এবার দুই ভারতীয়৷ সম্মান পাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ভরত ভাটওয়ানি। এই সোনম ওয়াংচুককে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় থ্রি ইডিয়টস ছবিটি৷ বৃহস্পতিবার এঁদের নাম ঘোষণা করা হয়৷ এই দুই ভারতীয় সঙ্গে আরও চারজনের নাম তালিকায় রয়েছেন৷

পড়ুন: ‘তাজমহল তুমি কার?’

মুম্বইয়ের বাসিন্দা ভরত ভাটওয়ানি মানসিক রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা শুরু করেন৷ ১৯৮৮ সাল থেকে এই কাজ করে আসছেন তিনি ও তাঁর স্ত্রী৷ এজন্য একটি সংস্থাও তৈরি করেন তাঁরা৷ রাস্তায় পড়ে থাকা মানসিক রোগীদের বিনামূল্যে থাকার জায়গা, খাবার এবং চিকিৎসার সুযোগ দিয়ে পরিবারের লোকজনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেন ভাটওয়ানি। এই কাজের স্বীকৃতি পেলেন তিনি।

অন্যদিকে সোনম ওয়াংচুককে নিয়েই তৈরি হয়েছিল বলিউডের বিখ্যাত থ্রি ইডিয়টস সিনেমাটি৷ উত্তর ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় যুগান্তাকারী পরিবর্তন নিয়ে আসার অবদান এই মানুষটির৷ ৫১ বছরের ওয়াংচুক শ্রীনগরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেকনলজিতে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র ছিলেন। জীবনের সঙ্গে বিজ্ঞানকে অতুলনীয় ভাবে মিলিয়ে দেন তিনি৷ সহজ করে তোলেন সাধারণ মানুষের জীবন যাত্রা৷ তারই সাথে লাদাখের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় সাহায্য করার জন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়েন। তাঁদের জীবন বদলে দেন ওয়াংচুক। এই অসামান্য কাজেরই স্বীকৃতি পেলেন তিনি।

এবার মোট ৬ জন এই পুরস্কার পাচ্ছেন। ভারতের দু’জন ছাড়াও কম্বোডিয়ার ইয়ুক ছ্যাং, পূর্ব তিমরের মারিয়া ডে লুরডেজ মার্টিন্স ক্রুজ, ফিলিপিন্সের হাওয়ার্ড ডি ও ভিয়েতনামের ভো থি হোয়াং ইয়েন রম এই পুরস্কার পাচ্ছেন।

পড়ুন: ইমরানকে জয়ের আগাম শুভেচ্ছা কপিল দেবের

প্রতি বছর রামোন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন এশিয়ার বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংগঠনকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান ও কৃতিত্বের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করে। ছয়টি শ্রেণীতে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়, সরকারি সেবা, জনসেবা,

সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য, শান্তি ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়, নতুন নেতৃত্ব৷ রামোন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট কারমেনসিটা অ্যাবেলা বলেন এরা প্রত্যেকেই এশিয়ার হিরো৷ সমাজের আশা, সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এরা অগ্রগণ্য৷

Advertisement ---
---
-----