ধর্ষণের সুবিচার মেলেনি, ছেলে-সহ অগ্নিদগ্ধ মা

লখনউ: গণধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল৷ দিনটা ছিল ১৮ই অগাস্ট৷ পুলিশের কাছে ছুটে গিয়েছিলেন অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি নিয়ে৷ কিন্তু সুবিচার মেলেনি৷ অপমানে মানসিক যন্ত্রণায় গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন ২৭ বছরের মহিলা৷ সঙ্গে নিয়েছিলেন নিজের ১২ বছরের ছেলেকেও৷ কিন্তু বেঁচে গিয়েছে সে৷

এই লজ্জার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের সাহাজাহানপুর৷ শরীরে ৯৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল তাঁর৷ গুরুতর আহত অবস্থায় ভরতি করা হয় জেলা হাসপাতালে৷ তবে বাঁচানো যায়নি৷

আরও পড়ুন: মোমো আতঙ্ক এবার সোনারপুরে

- Advertisement -

১২ বছরের ছেলেটির শরীরের ১৫ শতাংশ পুড়ে যায়৷ আপাতত সে স্থিতিশীল সে৷ শুক্রবার সকালে তার মায়ের মৃত্যু হয় হাসপাতালে৷ মৃত্যুকালীন জবানবন্দীতে মহিলা জানিয়েছে পুলিশ তার কোনও কথাই শুনতে রাজী হয়নি৷ বারবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে সে নিজের নির্যাতনের কথা বলতে চেয়েছিল৷ কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কিছুই৷

পুলিশকে ওই মহিলার স্বামী জানান, যখন মহিলা আত্মহত্যা করেন, তখন তিনি বাড়িতে ছিলেন না৷ মহিলা ও তার ছেলেই ছিল৷ ওই ব্যক্তির আরও অভিযোগ গ্রামেরই তিন জন ১৮ই অগাস্ট তাঁর স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে৷ তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ কোনও সহযোগিতা করেনি৷ কোনও অভিযোগও নেয়নি৷ প্রায় একমাস ধরে ওই দম্পতি পুলিশের কাছে গিয়ে ফিরে এসেছে৷

আরও পড়ুন: পুজোর আগে বাড়ান ত্বকের জেল্লা

কোনও অভিযোগই দায়ের করেনি পুলিশ বলে দাবি ওই পরিবারের৷ উলটে অভিযুক্তদের থেকে টাকা নিয়ে গোটা বিষয়টি মিটিয়ে নিতে বলে পুলিশ৷গোটা ঘটনায় তিন পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে৷ একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে৷

মৃত্যুকালীন জবানবন্দী কোনও ক্রমে রেকর্ড করা গিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক সরকারি আধিকারিক৷ ওই মহিলার স্বামী একটি এফআইআর দায়ের করেছেন ওই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে৷ একজনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে৷ তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ বলে জানিয়েছেন সাহাজাহানপুরের পুলিশ আধিকারিক শিবাসিম্পি চানাপ্পা৷

আরও পড়ুন: জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় শক্তি প্রদর্শন প্রয়োজন: বিশ্বহিন্দু পরিষদ

পুলিশ সূত্রের খবর প্রথমে ওই মহিলাকে গণধর্ষণ করা হয়৷ পরে তাঁর ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনা প্রকাশ্যে না আনার কথা বলে৷ তবে ওই মহিলা নিজের স্বামীকে সব কথা জানান৷

তারপর ওই দম্পতি পুলিশের কাছে যান৷ কিন্তু কোনও লাভ হয়নি৷ পুলিশের কাছে যাওয়ায় ফের মহিলার ওপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা৷ পুলিশের থেকে কোনও সাহায্য না পাওয়ায় মহিলা মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলে জানা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: পুলিশি অভিযানে বীরভূমবাসীর মোবাইল প্রাপ্তি

Advertisement
-----