আসারাম বাপু মামলা: সাক্ষী খুনের পর অভিযোগ তুলে নেওয়ার হুমকি নির্যাতিতাকে

নয়াদিল্লি : মাঝে মাত্র একদিন গেছে ডেরা সাচা সৌদার ‘ভগবান’ রাম রহিম সিংকে ২০ বছরের সাজা শুনিয়েছে আদলত৷ তারপর দুদিন কাটতে না কাটতেই আবার শিরোনামে আর এক বাবা৷ আসারাম বাপু৷ তাঁর বিরুদ্ধেও চলছে ধর্ষণের মামলা৷ বাবার কড়া সাজা চান নির্যাতিতা৷ কিন্তু ইতিমধ্যেই মামলার ৩ সাক্ষী খুন হয়ে গেছেন৷ ৩ জন নিরুদ্দেশ৷ মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নির্যাতিতার পরিবারকেও নিত্য শুনতে হচ্ছে হুমকি৷

আরও পড়ুন: আসারাম বাপুর নাবালিকা-ধর্ষণের মামলায় দেরি কেন? সরকারকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের

সোমবার ছিল ধর্ষক বাবা রাম রহিমের সাজা ঘোষণার দিন৷ সেইদিনই সুপ্রিম কোর্ট আসারাম বাপুর মামলা নিয়ে গুজরাত সরকারকে ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট৷ বলে, আসারাম বাপুর মামলার কাজে দেরি করছে তারা৷ এবছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্ট আদেশ দিয়েছিল, আর দেরি না করে নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলে তার সাক্ষ্য নেওয়া হোক৷ সেই সঙ্গে অন্য সাক্ষীদেরও সাক্ষ্যগ্রহণ সেরে ফেলতে নির্দেশ দেয় দেশের সর্বোচ্চ আদালত৷ এখনও পর্যন্ত ৪০-এর বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়নি৷ তবে তার জন্য দোষারোপের অন্ত নেই৷ বাদী ও বিবাদী পক্ষ একে অপরের দিকে আঙুল তুলে চলেছে৷

- Advertisement -

আরও পড়ুন: আসারাম মামলায় আদালতের তোপের মুখে গুজরাত পুলিশ

তবে এই দোষারোপ, পাল্টা দোষারোপের মাঝে আটকে গেছে নির্যাতিতার বিচার৷ ২০১৩ সাল থেকে রাজস্থানের সংশোধনাগারে রয়েছেন ৭৬ বছর বয়সী আসারাম বাপু৷ ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে৷ সেই বছরের গোড়ার দিকে ঘটনাটি ঘটে৷ ঘটনার ২ মাস পরে আশারাম বাপু ও তাঁর ছেলে নারায়ণ সাঁইকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়৷ অভিযোগ ওঠে, গুজরাতের সুরাতে নিজের আশ্রমে ওই ১৬ বছরের নাবালিকা ও তার বোনকে ধর্ষণ করেন তিনি৷ গান্ধীনগর আদালতে এখনও সেই মামলা চলছে৷

আরও পড়ুন: জেলেও তার ‘সঙ্গিনী’ মেয়েকে চাই, আজব বায়ানাক্কা রাম রহিমের

সেই নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, “আমি ওই শয়তানের ফাঁসি ছাড়া কিছু চাই না৷ যারা আমাদের মেয়েদের জীবন নিয়ে খেলা করে, মানবতার নামে আমাদের বিশ্বাস উপড়ে ফেলে, তাদের ফাঁসিই কাম্য৷ অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মামলা পিছিয়ে দিচ্ছে আসারাম৷ তারিখের পর তারিখ নিয়ে যাচ্ছে৷ সাক্ষ্যর জন্য সাক্ষী আনা হচ্ছে না৷ ওর আইনজীবী মামলাটি ক্রমশ টেনেই যাচ্ছে৷ যদি এভাবেই দেরী হয়, মামলা দুর্বল হয়ে যাবে৷ আমাদের মতো গরিব লোকেরা আর্থিক চাপ ও মানসিক নির্যাতনের তলায় চাপা পড়ে যাবে৷ এভাবেই ক্ষমতাশীল মানুষেরা টাকার জোরে আমাদের ভেঙে দেয়, ভয় দেখায়৷ যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা মামলা তুলে না নিই, এসব চলতেই থাকে৷”

আরও পড়ুন: সব জেনেও কি চুপ ছিলেন বাবা রাম রহিমের স্ত্রী?

যখন থেকে সাক্ষ্য নেওয়া শুরু হয়েছে, ৩ জনের খুন হয়ে গেছে৷ ৩ জন নিরুদ্দেশ৷ আদালত চত্বরের মধ্যেই একজনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়৷ তা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত আসারামের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় (খুন) কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি৷ এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, গতকালই আর এক ‘বাবা’ রামপালের উপর থাকা খুনের অভিযোগের রায় দেয় আদালত৷ বেকসুর খালাস পান তিনি৷

নির্যাতিতার পরিবারের তরফে নিরাপত্তার আবেদন জানানো হয়েছে৷ নির্যাতিতার বাবা জানিয়েছেন, মাত্র ৪ দিন আগে তিনি এক আত্মীয়ের থেকে ফোন পান৷ ফোনে তাঁকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়৷ তাঁদের চেনাজানা সবার মধ্যে আসারামের সমর্থনকারীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে৷

আরও পড়ুন: জানেন রাম রহিমের ডেরা সাচ্চার মুকুটে রয়েছে ১৯খানা বিশ্ব রেকর্ড?

Advertisement ---
---
-----