সালিশি সভায় আদিবাসী ধর্ষিতাকে একঘরে করার নিদান

ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: ফের মধ্যযুগীয় বর্বরতার নির্দশন মিলল বীরভূমে৷ ওই জেলার মহম্মদবাজারে ধর্ষিতার পরিবারকেই একঘরে করার নিদান দেওয়া হল৷ গ্রামেই সালিশি সভা বসিয়ে দেওয়া হল এই নির্দেশ৷

এই ঘটনাটি কয়েকদিন আগেই ঘটেছে৷ প্রকাশ্যে এসেছে সোমবার৷ এদিন ধর্ষিতার পরিবার সালিশি সভার বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে৷ বীরভূমের পুলিশ সুপার ও জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে তাদের তরফে৷ তার পরই বিষয়টি জানাজানি হয়৷

আরও পড়ুন: বনধ মোকাবিলায় তৎপর রাজ্য সরকার

- Advertisement -

এই ঘটনায় তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে৷ তাদের নির্যাতিতা ওই আদিবাসী মহিলা সনাক্তও করেছেন৷ তার পরও কীভাবে গ্রামে সালিশি সভা বসিয়ে একঘরে করার নিদান দেওয়া হল, সেই প্রশ্নই উঠছে৷

নির্যাতিতা মহম্মদবাজারের চরিচা গ্রামের বাসিন্দা৷ মাস তিনেক আগে তিনি গণধর্ষণের শিকার হন৷ পুলিশ অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেফতার করে৷ তারা এখন জেল হেফাজতে রয়েছে৷

আরও পড়ুন: ‘মা আর ড্রাইভারের মুখে প্রথম শুনেছিলাম, আমার নগ্ন ভিডিও ফাঁস হওয়ার খবর’

এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি গ্রামের মাতব্বররা সালিশি সভা বসায়৷ নির্যাতিতাকে ধর্ষণের অভিযোগ ফিরিয়ে নিতে চাপ দেওয়া হয়৷ তিনি ও তাঁর পরিবার রাজি না হওয়ায় একঘরে করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়৷

গ্রামের কারও সঙ্গে কথা বললে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে হুমকি দেওয়া হয় ওই নির্যাতিতাকে৷ পাশাপাশি জানানো হয় গ্রামের কেউ এসে কথা বললে নির্যাতিতার পরিবারকে দশ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে৷

আরও পড়ুন: ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় হাসপাতালে অভিনেতা

এই পরিস্থিতিতে সোমবার পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন নির্যাতিতা৷ জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে এবিষয়ে অভিযোগ জানানো হয়৷ এ বিষয়ে অবশ্য প্রশাসন বা অভিযুক্তদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি৷

তবে নির্যাতিতা জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই তাঁর পরিবারের উপর নানাভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল৷ ভয় দেখানো হচ্ছিল অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে৷ সেই কারণেই ঘটনার পর মেয়ের ধর্ষণের বিষয়টি নির্যাতিতার মা মানতে চাননি৷ তিনি ভিত্তিহীন অভিযোগ বলেছিলেন৷

আরও পড়ুন: সোনায় বিনিয়োগের ভাবনা? তাহলে অবশ্যই পড়ুন

Advertisement ---
---
-----