তিরুঅনন্তপুরম: আশঙ্কা ছিলই৷ তবে এত দ্রুত ও ব্যাপক হারে আসবে, তার ধারণা ছিল না৷ ইতিমধ্যেই জল নামতে শুরু করেছে কেরলের বিভিন্ন প্রান্তে৷ ঘরে ফিরছেন মানুষ৷ জীবনে ফেরার লড়াই শুরু হওয়ার মুখেই এবার নয়া আতঙ্কের সামনে পড়লেন কেরলের সাধারণ মানুষ৷

নয়া আতঙ্কের নাম ব়্যাট ফিভার৷ ইতিমধ্যেই রবিবার পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এই ব়্যাট ফিভারে৷ গত দুদিনে ৪০ জন হাসপাতালে ভরত হয়েছেন৷ কেরলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অসুস্থ হওয়ার খবর মিলছে৷ বেসরকারি মতে মৃত্যুর সংখ্যা ২২ ছাড়িয়েছে৷ ব়্যাট ফিভার বা লেপটোস্পিরোসিস নামের এই রোগে গত ১০ দিনে ৩০০ জন হাসপাতালে ভরতি হয়েছেন৷

Advertisement

কোঝিকোড়ে একই দিনে ২৮ জন ভরতি হয়েছেন হাসপাতালে৷ এছাড়াও আলাপ্পুঝা, ত্রিশূর ও পঠনামথিট্টা এলাকাতেও প্রচুর মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন৷ রবিবার সকালে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর৷ চিকিৎসকরা বলেছেন, বন্যার সময় বহু মানুষ পশুপ্রাণীদের সঙ্গে সরাসরিভাবে শারীরিক সংস্পর্শে এসেছিল। সেজন্যই এই রোগ ছড়িয়েছে।

মূলত যাদের লিভার বা কিডনির রোগ রয়েছে, তারাই এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি৷ তবে আতঙ্কের কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজা৷ স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে রাজ্যের সব হাসপাতালেই পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ এবং প্রতিষেধক মজুত রয়েছে। তবে বন্যাবিধ্বস্ত এলাকার মানুষদের সতর্ক থাকতে এবং ডক্সিসাইলিন নামক একটি ওষুধ নিতে পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী।

এরই মধ্যে নিজের চিকিৎসার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন। তাঁর অবর্তমানে অস্থায়ী ভাবে কাজ দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ই পি জয়রঞ্জন৷ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই রোগের মোকাবিলায় সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া আছে। কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়৷

অন্যদিকে কেরালার স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ বন্যার জলের সংস্পর্শে এসেছিলেন। তাঁদের সকলেরই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সেটা যাতে না হয় তার জন্য সতর্ক থাকতে হবে।

----
--