গুগল থেকে প্রাপ্ত ছবি ( ফাইল)

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্বামী শোভন চট্টোপাধ্যায়ের দাবি উড়িয়ে দিলেন রত্না চট্টোপাধ্যায়৷ তাঁর পালটা দাবি, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও দিনই তাঁদের পারিবারিক বন্ধু ছিলেন না৷ এমনকী তাঁর কাছে কোনও দিনই রত্না চট্টোপাধ্যায় সাহায্য চাইতে যাননি৷ মেয়র পত্নীর এই বক্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন অংশ৷

মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে৷ তার মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ‘ঘনিষ্ঠতা’র কথা৷ গত কয়েকদিন ধরে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মেয়র ও মন্ত্রীর পদ ‘টালমাটাল’ অবস্থায় ছিল, তখন ‘হঠাৎ’ মিল্লি আমিন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ান৷

- Advertisement -

তিনি জানান, শোভন চট্টোপাধ্যায় যাতে ফিট থাকেন এবং যাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি না হয়, তার জন্য তিনি সর্বদা খেয়াল রাখবেন৷ যদি তার জন্য তাঁকে শাস্তি পেতে হয়, তা হলেও তাঁর কোনও অসুবিধা নেই৷ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পারিবারিক বন্ধু বলে জানান, রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্ক৷ মেয়রের স্ত্রী তাঁর কাছে একাধিবার সাহায্য চাইতে গিয়েছিলেন৷ এমনকী মেয়র এবং তাঁর স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলার পিছনে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও হাত নেই বলেও জানান৷

মঙ্গলবার শোভন চট্টোপাধ্যায়ও একবাক্যে বন্ধুত্বের কথা স্বীকার করেন৷ তিনি বলেন, “আমি যে সময় অস্তিত্ব সংকটে ভুগছিলাম সেই সময় যেভাবে বৈশাখীর পরিবার পারিবারিক বন্ধু হিসেবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে তাতে আমি কৃতজ্ঞ৷
আপনারা কীভাবে এর ব্যাখ্যা করবেন জানি না৷ আমিও বৈশাখীর পাশে আছি”৷ এমনকী বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর বন্ধুর জন্য তিনিও সব কিছু করতে প্রস্তুত বলেই জানিয়েছেন৷

মেয়রের সাংবাদিক সম্মেলনের পরই রত্না চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা শুনতে আমার ভালো লাগে না৷ উনি কোনও দিনই আমাদের পারিবারিক বন্ধু ছিলেন না৷ আর আমার তো ওনার কাছে সাহায্য চাইতে যাওয়ার কোনও প্রয়োজনই নেই৷ তবে উনি শোভন চট্টোপাধ্যায়কে কীভাবে সাহায্য করেছেন, সেই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই৷” তিনি জানান, তাঁর পাশে বাপের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ির সবাই রয়েছেন৷ এমনকি ইডির কাছে যাওয়ার আগে সমস্ত কাগজপত্রের ব্যাপারে তাঁর ভাসুর তাঁকে অনেক সাহায্য করেছেন বলেও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন রত্না চট্টোপাধ্যায়৷

মেয়রের স্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরই শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে চারপাশে অনেকেই নানা কথা বলতে শুরু করেছেন৷ রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিবাহ বিচ্ছেদের পিছনে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট চর্চা শুরু হয়েছে৷ আর এই মুখরোচক চর্চা যে স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

তবে এ দিন রত্না চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি চান তাঁর স্বামী বাড়িতে ফিরে আসুন৷ কারণ একজন কাউন্সিলর একজন বিধায়ক হিসেবে তাঁকে এলাকায় মানুষের দরকার আছে৷

----