মুম্বই: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের দুর্দিন এখনও শেষ হয়নি। এই বছরে আরও বাড়ছে অনুৎপাদক সম্পদের পরিমাণ৷ মঙ্গলবার এমনটাই জানাল রিজার্ভ ব্যাংক৷ এমনিতেই অনুৎপাদক সম্পদ চিন্তায় ফেলছে ব্যাংকগুলিকে। ইতিমধ্যেই এমনই দশা, গত অর্থবর্ষের শেষ তিন মাসে লাভের মুখ দেখেছে ২১টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে মাত্র দু’টি। ১১টি ব্যাংকের উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধের খাড়া নেমে এসেছে রিজার্ভ ব্যাংকের কাছ থেকে ৷ এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও ব্যাংকিং শিল্পের দাবি ছিল, হিসেবের খাতা পরিষ্কার করতে গিয়েই এমন ক্ষতি গুনতে হয়েছে ৷ তবে দুর্দিন পার হয়ে যাচ্ছে এবার সুদিন আসন্ন৷ কিন্তু রিজার্ভ ব্যাংকের সেই আশাতেই জল ঢেলেছে৷

আরও পড়ুন: জরুরি অবস্থায় জেলে গিয়েছিলেন বাজপেয়ী থেকে জেটলি

Advertisement

গত মার্চে যেখানে অনুৎপাদক সম্পদের পরিমাণ ছিল ১১.৬ শতাংশ সেটাই ২০১৯ সালের মার্চে বেড়ে গিয়ে দাঁড়াবে ১২.২শতাংশ যদি না অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে ৷রিজার্ভ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল স্টেবিলিটি রিপোর্ট এমনটাই বলছে৷ তাছাড়া ওই রিপোর্ট বলছে, ওই ১১টি ব্যাংকের অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ আগামী বছরের মার্চের শেষে আরও বাড়বে। এর মধ্যে ছ’টি আবার সম্ভবত বাসেল বিধি অনুযায়ী ন্যূনতম পুঁজির শর্তও পূরণ করতে পারবে না।

মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পিসিএ তকমা লাগা ১১টি ব্যাংকের শীর্ষ কর্তাদের ডেকেছিল। সেই কমিটির সামনে কর্তারা জানিয়েছেন, ওই তকমা থেকে বেরিয়ে আসতে এখনও দু’বছর সময় লাগবে। গত জানুয়ারি থেকে মার্চে যে দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক লাভের মুখ দেখেছিল, সেগুলি হল বিজয়া ব্যাংক ও ইন্ডিয়ান ব্যাংক। এখন আইডিবিআই, ইউকো ব্যাংক, সেন্ট্রাল ব্যাংক, ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাংক, দেনা ব্যাংক, ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অব কমার্স, মহারাষ্ট্র ব্যাংক, ইউনাইটেড ব্যাংক, কর্পোরেশন ব্যাংক ও এলাহাবাদ ব্যাংক রয়েছে এই পিসিএ তালিকায়।

আরও পড়ুন: মেলার ঘটা বেড়েছে, বঙ্কিমের বাড়ি সংস্কার বিশ বাঁও জলে

এ দিন কমিটির সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন, ক্ষতি ও অনাদায়ী ঋণের বোঝার চাপে এই ব্যাংকগুলির পক্ষে কতখানি নতুন ঋণ দেওয়া সম্ভব? ব্যাংক কর্তাদের উত্তর, অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন ঋণ দেওয়ায় শীর্ষ ব্যাংক বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। তবে ডিভিডেন্ড দিতে বাধা আছে। তাঁরা পিসিএ থেকে বেরনোর রূপরেখাও খুঁজছেন। যদিও আরবিআই রিপোর্ট অনুযায়ী, গহনা, পরিকাঠামো, কাগজ, সিমেন্ট ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনাদায়ী ঋণের অংক বাড়ছে। পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা জরুরি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

----
--