সুরেলা স্মৃতিতে ভরপুর পঞ্চমদার ৭৯ তম জন্মবার্ষিকী

মুম্বই: ভারতীয় সঙ্গীত জগতে আজও তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র৷ যাঁর কোনও বিকল্প সত্তরের দশকেও ছিল না, আজও নেই৷ ‘মেরে সামনে ওয়ালি খিড়কি মে’ থেকে শুরু করে ‘তুঝসে নারাজ নহি জিন্দগি’ নিজের প্রতিটি সৃষ্টি দিয়ে শ্রোতাদের ভাসিয়েছিলেন সুরের দুনিয়ায়৷ আজ সেই প্রবাদপ্রতীম শিল্পী রাহুল দেব বর্মনের ৭৯ তম জন্মবার্ষিকী৷ আজ এই বিশেষ দিনে নতুন করে কিছু বলার নেই, তবে রয়েছে অসংখ্য স্মৃতি৷ সেই সুরেলা স্মৃতি যেখানে সঙ্গীত জগত পেয়েছে গানের এক স্বর্ণযুগ৷ পঞ্চমদা আর আমাদের মধ্যে নেই ঠিকই তবে সঙ্গীতপ্রেমীদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে তাঁর সুর৷

গানের পৃথিবীতে তাঁর সুর এনেছিল এক বিপ্লব৷ আর ডি বর্মন সেই বাঙালিদের মধ্যে পড়েন যিনি আপাদমস্তক বদলে ফেলেছিলেন বলিউডের সঙ্গীতকে৷ গানের খেলায় মাতিয়ে তুলেছিলেন গোটা দেশকে৷ পঞ্চমরাগ আজও গুনগুনিয়ে ওঠে সঙ্গীতপ্রেমীদের মনের কোনায়৷ যেকোন সঙ্গীতপ্রেমী এ কথা দাবি করে বলতে পারে যে আরডির সুর আজীবন বেঁচে থাকবে শ্রোতাদের মনের মণিকোঠায়৷

পঞ্চমদার নাম শুনলেই তাঁর কয়েকটি বিশেষ গান যেন কানে বেজে ওঠে৷ সেই সেরার সেরা গানগুলির মধ্যে রয়েছে, ‘মেরে সামনে ওয়ালি খিড়কি মে’৷ ‘পড়োসন’ ছবির সেই বিখ্যাত গান৷ যে কোনও ছবিতেই আর ডি বর্মনের গান একটা মুখ্য ভূমিকা পালন করত৷ সিনেমায় যেমন প্লট, ক্লাইম্যাক্স, কোনও চরিত্র গল্পের মোড় ঘোরায়, তেমন তাঁর গান চিত্রনাট্য ঘোরাতে সাহায্য করত৷ গল্পে নিয়ে আসত ট্যুইস্ট৷ এই গানটিতেই ‘পড়োসন’র হিরো ভোলের গান শুনে মুগ্ধ হয়ে যায় বিন্দু৷ এই গান আজও সঙ্গীতের আকাশে ধ্রুবতারা৷

- Advertisement -

 

 

‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে জো দিল কো’৷ একুশ শতকে লাভ অ্যান্থেম বললেই এই একটা গানই সবার আগে মাথায় আসে৷ প্রথম প্রেম, সেই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ৷ হাতে গিটার হোক বা না হোক, আজকের যুগেও জেন ওয়াই গলা মেলায় এই গানে৷ কতবার যে এই গানের রিমেক রয়েছে তার ধারণা নেই৷ আজকাল ডিজিটাল দুনিয়ার মাধ্যমে উঠতি শিল্পীরাও, আর ডির গানগুলিকে নিয়েই এক্সপেরিমেন্ট করেন৷ তবুও সেই সুর, সেই তালের কোনও বিকল্প নেই৷ সঙ্গীত মায়েস্ত্রোর এই রোম্যান্টিক ট্র্যাক এত বছর পরও সকলের কাছে সেরা গান৷

কেবল রোম্যান্টিক ট্র্যাক নয়, পার্টি সংয়ের বিষয়েও পিছনে ছিলেন না পঞ্চমদা৷ ‘দম মারো দম’ থেকে ‘মেহবুবা’৷ যত দিন যায়, এই গানগুলি যেন আরও নতুন হয়ে ওঠে শ্রোতাদের কাছে৷ যতই ‘শিলা কি জওয়ানি’ সঙ্গীতের দুনিয়ায় ভাইরাল হোক না কেন, আর ডির রেট্রো হিটের কাছে হার মানবে প্রত্যেকটি বিখ্যাত আইটেম নম্বর৷

আজ ভারতীয় সঙ্গীতজগতেও কোথাও যেন বিষাদের সুর৷ সম্প্রতি জানা গিয়েছে, পঞ্চমদার কলকাতার বাড়ি পোড়ো বাড়ির রূপ নিয়েছে৷ ঢাকুরিয়ার ৩৬/১ সাউথ এন্ড পার্কের বাড়িটি যেখানে নিজের জীবনের ১৫ টা বছর কাটিয়েছিলেন৷ কঙ্কালসার কার্নিশ, খসে পড়া প্লাস্টার, গজিয়ে ওঠা আগাছার জঙ্গল-এমন চেহারা আজ কলকাতার বর্মন বাড়ি। যে বাড়িতে একসময় থাকতেন শচীন দেব বর্মন। এই বাড়িতেই জন্ম আর ডি-র। পিতা-পুত্রের স্মৃতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বাড়ির আনাচে-কানাচে। কিন্তু আজ অতীতের গ্ল্যামারের ঝলকানি মলিন। নেমপ্লেটে লেখা ‘শচীন দেন বর্মন’-এর বাড়িটি অনেকের কাছে তাই পোড়ো বাড়ি।

 

Advertisement
---