বইমেলার স্থান পরিবর্তন: কী বলছেন সাহিত্যিকরা

অরুণাভ রাহারায়, কলকাতা: ময়দান থেকে বইমেলা উঠে যাওয়ার পর যেমন মনখারাপ হয়েছিল, মিলন মেলা থেকে বইলেমা সরে যাওয়ার পরও যেন সেকমই অনুভূতি হচ্ছে। এমনই মনে করছেন কেউ কেউ।

মঙ্গলবার রাতে যাখন নবান্ন থেকে ফোন আসে তখন বইমেলার অন্যতম কর্তা ছিলেন রামনগরে, বইমেলারই কাজে। পাবলিশার্স এন্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে kolkata24x7.com-কে জানান, “গতকাল রাতে নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেক্রেটারি সৌমেন ব্যানার্জী বইমেলা কর্তৃপক্ষকে ফোনে করে বলেন ম্যাডাম এবার সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে বইমেলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” সুধাংশুবাবু আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সব সময়ই বইমেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। মিলন মেলা আরও সুন্দর করে সাজানো হচ্ছে। তাই ১/২ বছর যদি অন্য কোথাও বইমেলা হয়, ভবিষ্যতের ভালোর দিকে তাকিয়ে সেটা আমাদের মেনে নিতেই হবে।”

এদিকে বইমেলার স্থান পরিবর্তনের খবর বইপাড়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ছোট প্রকাশকদের মধ্যে নেমে আসে বিষাদের সুর। সাহিত্য মহলেও তোলপাড়৷  সাহিত্যিক নবনীতা দেবসেন বলেন “বইমেলা যেখানেই হোক, মানুষের যাতায়াতের যেন কোনও রকম অসুবিধে না হয়।”

- Advertisement -

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় অবশ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি জানান “মিলন মেলা সংস্কারের জন্য সাময়িক ভাবে স্থান পরিবর্তন হচ্ছে। কাজেই এটা মেনে নিতে হবে। এতে খুব একটা চিন্তার কারণ নেই। বইমেলা বহুকাল ধরেই নির্বিঘ্নে হচ্ছে। দু-এক বছর স্থান পরিবর্তন হলে অসুবিধে নেই।”

আবুল বাশারও সরকারের এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে বলেন “সবই নির্ভর করছে ব্যবস্থার ওপর। সংস্কার দরকার। সেন্ট্রাল পার্কে যদি সঠিক ব্যবস্থা করতে পারে রাজ্য সরকার– তাহলে তো কোনও অসুবিধে নেই। বইপ্রেমী মানুষদের যাতে যাতায়াতে কোনও রকম অসুবিধে না হয়, সেই সঙ্গে প্রকাশকদেরও যেন কোনও ক্ষতি না হয় সেদিকে নজর রাখলেই হবে। আমার ধারণা রাজ্য সরকার সেটা পারবে।”

Advertisement
---