ভারতরত্ন বাজপেয়ীকে চিঠি লিখে স্যালুট জানিয়েছিলেন নওয়াজ শরিফ

নয়াদিল্লিঃ  ভারতরত্ন’ প্রাপ্তির জন্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়ে ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ৷ চিঠিতে তিনি বাজপেয়ীকে ভারত-পাক দুদেশের সম্পর্কের উন্নতির কারিগর বলে উল্লেখ করে কার্যত স্যালুট জানিয়েছিলেন৷ প্রসঙ্গত, বাজপেয়ী যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন তখন নওয়াজ শরিফও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন৷ আর তাই বাজপেয়ীর ভারতরত্নের পরেই সেই সময়কার সম্পর্কের স্মতিচারণ করে তা চির উজ্জ্বল বলেও মন্তব্য করে ছিলেন নওয়াজ শরিফ৷ সেই প্রসঙ্গে দিল্লি-লাহোর বাসযাত্রার উল্লেখ করতেও ভোলেননি তিনি।

ভারত-পাক সম্পর্কে টেনশন কমাতে সেই সময় বাজপেয়ী নিজে বাসে চেপে লাহোর গিয়েছিলেন৷ যদিও তাঁর সেই উদ্যোগ পরবর্তীকালে আর সফলতার মুখ দেখেনি৷ সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শরিফকে হটিয়ে পাকিস্তানের ক্ষমতায় বসেন জেনারেল পারভেজ মুশারফ৷ তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন বাজপেয়ী ও আডবানী৷ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উষ্ণতা বজায় রাখতে আগ্রা শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল পারভেজ মুশারফকে৷ তিনি এসেছিলেন বটে, কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি৷ বরং তাঁর জমানাতেই ভারতের বুকে ঘটেছিল একের পর এক মারাত্মক জঙ্গি হামলা৷

- Advertisement -

কাশ্মীর বিধানসভায় ফিদায়েঁ আক্রমণ, সংসদে হামলা, অক্ষরধাম থেকে বারাণসীর সংকট মোচন মন্দিরে রক্তপাত, সবই ঘটে মুশারফ পাকিস্তানের ক্ষমতায় থাকার সময়৷ সেই সময়েই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা পাক সামরিক গুপ্তচর বাহিনী আইএসআইয়ের অপারেশনাল হেডকোয়ার্টার্সে পরিণত হয়েছিল৷ বাংলাদেশের ক্ষমতায় তখন খালেদা জিয়া৷ আরও মর্মান্তিক, আগ্রা শীর্ষ সম্মেলনের কিছু দিনের মধ্যেই ঘটে ভারতের এয়ারবাস অপহরণের ঘটনা৷ অসহায় ভারতীয় বিমানযাত্রীদের বাঁচাতে মাসুদ আজহারের মতো সাঙ্ঘাতিক সন্ত্রাসবাদীকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় বাজপেয়ী সরকার৷

Advertisement
---