সেম-সাইড বিশ্বকাপ!

মস্কো: আত্মঘাতী গোল করার যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপে৷ গ্রুপ পর্বের মাত্র ১৭টি ম্যাচ খেলা হয়েছে আর তাতেই আত্মঘাতী গোলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫টি৷ যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি টুর্নামেন্টে সর্বমোট আত্মঘাতী গোলের বিচারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে৷ ২০১৪ সালে পুরো বিশ্বকাপে মোট ৫টি আত্মঘাতী গোল হয়েছিল৷ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার সেম-সাইড গোল হয়েছিল ১৯৮৮ সালে, পুরো টুর্নামেন্টে মোট ৬টি আত্মঘাতী গোল হয়েছিল৷

রাশিয়া বিশ্বকাপে এখনো অবধি পাঁচখানা আত্মঘাতী গোল হয়েছে ৷ সেগুলি হল, মঙ্গলবার মিশর বনাম রাশিয়া ম্যাচে ইজিপ্টের ডিফেন্ডার আহমেদ ফাতির আত্মঘাতী গোলে ৪৭ মিনিটে এগিয়ে যায় রাশিয়া৷ শেষ পর্যন্ত ৩-১ ম্যাচ যেতে রাশিয়া৷ মঙ্গলবারই সেনেগাল বনাম পোল্যান্ড ম্যাচের প্রথমার্ধের ৩৭ মিনিটে সেনেগালের প্রথম গোলটি আসে বিপক্ষ দলের ফুটবলার সিয়োনেকের আত্মঘাতী গোল থেকে৷

এরআগে শনিবার রাতের ম্যাচটিতে ক্রোয়েশিয়ার দু’টি গোলের একটি নাইজেরিয়ার ফুটবলার এটেবো-এর আত্মঘাতী গোল৷ ম্যাচের ৩২তম মিনিটে মদ্রিচের কর্নার থেকে হেডে করে বল গোলে পাঠানোর চেষ্টা করেন মানজুকিচকে৷ ক্রোয়েশিয়ান ফরোয়ার্ডের নিচু হেড বিপক্ষের গোলপোস্ট মিস করেছিল কিন্তু নাইজেরিয়ার ফুটবলার এটেবোর পায়ে লেগে দিক পাল্টে বল জড়ায় জালে৷ ১-০ এগিয়ে থেকে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ করে ক্রোয়েশিয়া৷

- Advertisement -

বিশ্বকাপের তৃতীয় ম্যাচে ইরানের কাছে ১-০ পরাজয় স্বীকার করে মরক্কো৷ ম্যাচের ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের চতুর্থ মিনিটে ফরোয়ার্ড আজিজি বোয়াদুজের ভুলে এগিয়ে যায় ইরান৷ এহসান হাজিজি সাফির ফ্রি-কিক থেকে আত্মঘাতী গোল করেন মরক্কোর ফরোয়ার্ড বোয়াদুজ৷

কাজানে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ফ্রান্স৷ ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে গ্রিজমান এগিয়ে দেন ফরাসি দলকে৷  ফ্রান্সের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড তারকা পল পোগবা৷ ফরাসি মিডফিল্ডারের গোল নিয়ে সংশয় ছিল ফিফার মনে৷ শেষমেশ যাবতীয় সংশয় দূর করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছয় আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা৷ তারা পোগবার কাছ থেকে গোলের কৃতিত্ব কেড়ে নেওয়াই উচিত মনে করে৷

পোগবার গোল নিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রশ্ন তুলেছিলেন তাঁর ক্লাব কোচ মোরিনহো৷ তাঁর মতে গোলটির পিছনে পোগবার যতটা না কৃতিত্ব আছে, তার থেকে অনেক বেশি দায়ি অস্ট্রেলিয়া ডিফেন্ডার আজিজি বেহিচের ফাইনাল টাচ৷ পোগবার চিপ আজিজের পায়ে লেগেই অজি গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে গিয়ে প্রতিহত হয় ক্রসবারে৷ তবে মাটিতে ড্রপ করার সময় গোললাইন পার করে যায়৷

ফিফা প্রাথমিকভাবে গোলটিকে পোগবার গোল হিসাবেই চিহ্নিত করে৷ তবে পরে ভিডিও বিশ্লেষণে নিজেদের ভুল শুধরে নেন ফিফা অফিসিয়ালরা৷ ফিফার তরফে পরে গোলটিকে আজিজের আত্মঘাতী গোল হিসাবেই উল্ল্যেখ করা হয়৷

Advertisement
---