২৫ কেজি মণিপুরি গাঁজা সহ ধৃত এক

সঞ্জয় কর্মকার, বর্ধমান: ২৫ কেজি মণিপুরি গাঁজা সহ এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল বর্ধমান শুল্ক দফতর। ধৃতের নাম শিবরাম মণ্ডল। বাড়ি বর্ধমানের পূর্বস্থলী থানার পারুলিয়া গ্রামে। বুধবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে তোলা হয়।

বেশ কিছুদিন ধরেই শুল্ক দফতরের কাছে খবর ছিল পূর্বস্থলী থেকে আন্তঃরাজ্য মণিপুরি গাঁজা চোরাচালান করা হচ্ছে। এরপরই সূত্র মারফত নজরদারি শুরু করে শুল্ক দপ্তর। বুধবার সকালে একটি জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গাঁজা নিয়ে যাবার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে শিবরাম মণ্ডল। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়ে ৯টি ব্যাগ থেকে প্রায় ২৫ কেজি মণিপুরী গাঁজা। যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩ থেকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। গাঁজা পাচার চক্রের মূল পাণ্ডা মরণবালা দাসের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।

দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে,মরণবালা দাসই গোটা রাজ্যে গাঁজা পাচারের মূল পাণ্ডা। তার হাত ধরেই কেবলমাত্র গোটা বাংলা জুড়েই যে গাঁজা পাচার হচ্ছে তাই নয়, বাংলার বাইরে অন্যান্য রাজ্যেও তার গাঁজা সাম্রাজ্য বিস্তৃত রয়েছে। বর্ধমানকে কেন্দ্র করে এই চোরাচালানের একটা নিশ্চিত করিডর তৈরি করে ফেলা হয়েছে বলে মনে করছেন শুল্ক দফতরের অফিসাররা। শুধু গাঁজা বা আফিমই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পোস্তর খোলাও। দুর্গাপুর-বাঁকুড়া রোডের শিবপুর এলাকায় এই পোস্তর খোলায় নেশাসক্ত হবার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে।

- Advertisement -

জেরায় ধৃত শিবরাম মণ্ডল স্বীকার করেছেন, তিনি মরণবালা দাসের অধীনেই কাজ করেন। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গাঁজা পাচার করতে পারলে সে মরণবালা দাসের কাছ থেকে৫০০-৭০০ টাকা পেত ।

এদিকে, পুলিশের বাইরে সম্পূর্ণ শুল্ক দফতর এভাবে গাঁজা পাচারকারীকে গ্রেফতার করায় রীতিমত চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি প্রশ্ন উঠেছে দিনের পর দিন পূর্বস্থলী থেকেই গোটা রাজ্যে গাঁজা পাচারের কাজ চললেও কেন পুলিশ কোনো খবর পায়নি। এমনকি সুদূর মণিপুর রাজ্য থেকে দিনের পর দিন এভাবে গাঁজা নিয়ে আসার সময় একাধিক নিরাপত্তা বলয়কে কিভাবে অনায়াসে ভেদ করে এই গাঁজার কারবার চলল– প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েও। যদিও এব্যাপারে শুল্ক দফতরের কেউ মুখ খুলতে চাননি।

Advertisement ---
---
-----