রাজীবের হাত ধরেই অন্য ‘হোমে’ শুরু লক্ষ্মীর সংসার

জলপাইগুড়ি: জীবনের সব আশা সবসময় পূরণ হয় না। কিন্তু অনেক কিছু আবার পূরণ হয়েও যায়। তবে সবকিছুই থাকে অদৃষ্টের উপরে। সেই সুবাদেই চার হাত এক হল রাজীব আর লক্ষ্মীর।

আরও পড়ুন- স্রোতের বিপরীতে গিয়েই অনেকের অনুপ্রেরণা রূপান্তরকামী জিয়া

জীবন সঙ্গিনীকে হতে হবে অনাথ। এমনই দাবি ছিল রাগঞ্জের বাসিন্দা রাজীবের। অন্যদিকে জলপাইগুড়ির অনুভব হোমের আবাসিক লক্ষ্মীকে পাত্রস্থ করতে একজন সুপাত্রের খোঁজ চলছিল। অদৃষ্টের লেখনীতে মিলে গেল দুই জীবন।

- Advertisement -

সাত পাকে বাঁধা পড়লেন জলপাইগুড়ি অনুভব হোমের আবাসিক লক্ষী এবং রায়গঞ্জের বাসিন্দা রাজীব। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়িতেই বসেছিল সেই বিবাহ বাসর। শুভ বিবাহের এই অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি থেকে শুরু করে কোতয়ালী থানার আইসি, ক্রীড়া জগতের ব্যক্তিত্ব, চিকিৎসক সহ সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষেরা হাজির ছিলেন। সবমিলিয়ে এক আনন্দময় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি।

আর পাঁচটি বিয়ের অনুষ্ঠানের সাথে হোমের এই আবাসিকের বিয়ের অনুষ্ঠানের তফাত খুব একটা ছিলো না। খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে সব আয়োজনই করেন হোম কর্তৃপক্ষ। পাত্র-পাত্রী উভয়েই খুব খুশি। খুশি পুলিশ প্রশাসনের কর্তারাও।

হোমের কো অর্ডিনেটর দীপশ্রী রায় জানিয়েছেন যে লক্ষ্মী এই হোমে একটু বেশি বয়সেই এসেছিলো। প্রায় ছ’ সাত বছরের মধ্যেই হোম কর্তৃপক্ষের নজর কাড়ে সে। তাইকোনডোতে লক্ষ্মী যথেষ্ট পারদর্শী। একই সঙ্গে খুব ভালো রান্নার কাজও জানে সে। হোম পরিচালিত রেস্টুরেন্ট চালাতো সে। পাত্র রাজীব তার জীবন সঙ্গিনী হিসেবে এক অনাথ মেয়ের খোঁজ করছিলেন। সেই প্রস্তাব পেয়েই এই বিয়ের আয়োজন করা হয়। একটি পরিবারের সদস্যদের হাতে লক্ষ্মীকে তুলে দিতে পেরে হোমের সকলেই খুব খুশি।

Advertisement
---