নয়াদিল্লি: রাস্তার থেকে রেঁস্তোরাতে জলের বোতলের দাম কয়েকগুণ বেশী হয়৷ এই নিয়ে সাধারণ মানুষদের মনে ক্ষোভ থাকলেও সেই সমস্যার সমাধান এখনই সম্ভব নয়৷ একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছে, রেঁস্তোরা কিংবা হোটেলে যে মিনারেল ওয়াটার বোতল বিক্রি হয় তার দাম নির্ধারিত দামের থেকে বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন হোটেল কর্তৃপক্ষ৷ শুধু জলের বোতলই নয়৷ প্যাকেটবন্দী খাওয়ারও নির্ধারিত দামের থেকে বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন তারা৷

এই বিষয়টি নিয়ে সরকার যে বিতর্ক তৈরি করেছিল৷ সেই বিতর্কেরই ইতি টানল দেশের সর্ব্বোচ্চ আদালত৷ রেঁস্তোরাতে অতিরিক্ত টাকায় যে জলের বোতল বিক্রি করা হয় সেটি নিয়ে সরকার একটি মামলা ঠুকেছিল সুপ্রিম কোর্টে৷ এই বিষয়টি নিয়ে কিছুদিন আগেই সরকার জানিয়েছিল, যদি কোনও হোটেল কিংবা রেঁস্তোরা কর্তৃপক্ষ এমআরপির থেকে বেশি দাম যদি নেয় তাহলে নির্ধারিত সেই সংস্থাকে ২৫হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে৷

এই প্রসঙ্গে শীর্ষ আদালতের বিচারপতি রোহিনতন নারিম্যান এবং তাঁর অধীনে থাকা একটি সাংবিধানিক বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, হোটেলে যে প্যাকেজড ওয়াটার কিংবা ফুড বিক্রি হয় তা আর পাঁচটা দোকানে বিক্রি হওয়া জিনিসের মত নয়৷ কোনও সাধারণ ব্যক্তি হঠাৎ করে কোনও হোটেলে ঢুকে জলের বোতল কিনবেন না৷ আইনজীবী সমীর পারিখ জানিয়েছেন, হোটেলে কিংবা রেঁস্তোরাতে গিয়ে যদি কেউ জলের বোতল কেনেন৷ সেখানে বিষয়টা আর পাঁচটা দোকানে গিয়ে জলের বোতল কেনার থেকে বেশ কিছুটা আলাদা৷ কারণ জলের বোতল সেখানে সংরক্ষিত করার পিছুও কিছু টাকা খরচ হয়৷ সেক্ষেত্রে যদি এমআরপিতে অনুযায়ী সেই টাকা নেওয়া হয় তাহলে আদতে রেঁস্তোরাই ক্ষতি হবে৷

ওয়াকিবহল মহলের মতে, শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের জেরে বিক্রেতারা যতটাই উচ্ছ্বসিত ততটাই আশঙ্কিত ক্রেতারা৷ ত্রেতাদের আশঙ্কা, শীর্ষ আদালতের এই রায়কে সামনে রেখে এবার ইচ্ছেমত দাম নেওয়ার পথে হাঁটবেন বিক্রেতারা৷

----
--