Reel-এর ‘রিইউনিয়ন’-এ মিশে গেল Real-এর রিইউনিয়ন

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : কেটে গিয়েছে ২০ টা বছর। ওদের আর দেখা হয়নি। কিন্তু আজও মন খারাপের মেঘলা দিনে, ম্যাজিকের মতো মুখে হাসি ফুটিয়ে দিয়ে যায় কলেজের সেদিন গুলি। সেমসয় ওরা চারজন মিলে না জানি কতো কী করেছে। কলেজে সবাই ওদের হরি আত্মা বলত। আসলে ওদের মধ্যে মিলও তো ছিল অদ্ভূত রকমের। একই ধরণের ভাবনা চিন্তা৷ একই মতামত৷ একই ভাললাগা।

ফ্ল্যাশ ব্যাকের সঙ্গেই বর্তমানের মিশেলে বন্ধুত্ব নিয়েই গল্প বুঁনেছে পরিচালক মুরারি এম রক্ষিত। ছবির নাম’রিইউনিয়ন’৷ অভিনয়ে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, রাইমা সেন, ইন্দ্রাশিস রায় ও সায়নি ঘোষ সহ আরও অনেকে। যাঁদের নিয়ে কলকাতার অলিগলি জুড়ে শ্যুটিং করেছেন মেন্টর অফ দ্য গ্রুপ মুরারি। সম্প্রতি শহরের এক মলে ছবির মিউজিক লঞ্চে উপস্থিত ছিল ‘রিইউনিয়ন’র গোটা টিম৷ বিশেষত ছবির মিউজিক টিম৷ শিলাজিৎ, রূপম, রূপঙ্কর, জয় সরকারের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের মাহাত্য আরও বাড়িয়ে তুলেছিল৷

- Advertisement -

যেহেতু বন্ধুত্বের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গিয়ে ছবিটি তৈরি হয়েছে, সেখানে সঙ্গীতের একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা রয়েছে৷ ছবির অন্যতম গীতিকার তেমনটাই জানালেন৷ “সব দিক দিয়েই এটা একটা রিইউনিয়ন হতে চলেছে৷ আর আমি যে এই ফিল্মের তিনটে গানের কলম ধরতে পেরেছি, সেটা ভেবেই ভালো লাগছে৷ মুভিটার বিষয়টাও খুব ইন্টারেস্টিং৷ আমরা যে বয়সে দাঁড়িয়ে আছি, আমরা আমাদের কলেজ জীবন ফিরে পাব এই ছবির মাধ্যমে৷ এবং সেই কারণেই ছবিটার গানগুলো খুব উপযোগী৷”

কাহিনির পাতা অনুযায়ী, গ্রুপটা ছিল তিনটি ছেলে আর একটি মেয়ের। তারমধ্যে দু’জন ছিল সিরিয়র। কিন্তু সম্পর্কে এসব বড় ছোট, দাদা-দিদির কোনও ব্যাপার ছিল না৷ বিন্দাস তারা আড্ডা মারত। চলত হাসি-মজাক। সব সময় একে অন্যের সঙ্গে যেন আসটে পিসটে জড়িয়ে আছে সারাক্ষণ। কিন্তু কলেজের গন্ডি পাড় হতেই হারিয়ে যায় দিনগুলি। একই শহরে থেকে রোজ তো দূরে থাক, আজকাল আর দেখাই হয়না তাদের।

সেই চার বন্ধুর মধ্যে একজনের চরিত্রে রয়েছেন ইন্দ্রাশিস৷ তাঁর কথায়, “জয় দা আমি বলেওছি যে এটা তোমার বেস্ট অ্যালবাম৷ আপনাদেরও তাই মনে হবে৷ আমার মনে পড়ে, স্কুল-কলেজ কেটে ওঁদের শো দেখতে যেতাম৷ এনাদের সঙ্গে এখই মঞ্চে দাঁড়িয়ে খুব গর্বিত৷” গ্রুপের আরেকজন মেম্বারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সায়নী ঘোষ৷ তিনি জানান, “সবাই মিলে প্লিজ বাংলা ছবিকে সাপোর্ট করুন৷ আপনাদের কাছে আমাদের সবার তরফ থেকে এই একটাই অনুরোধ৷” পরিচালকও একই অনুরোধ করেন শপিং মল ভর্তি লোকজনকে৷

কংক্রিটের এশহরে রোজকার ব্যস্ততায় হাঁপ ছেড়ে বাঁচতে তারা প্ল্যান করে রিইউনিয়নের। নির্দিষ্ট দিনে দেখা হয় তাঁদের। কিন্তু রিইউনিয়নের দিনটিতেও বাজল মন কেমনের সুর। কিন্তু একদিন তাঁদের ভাবনাচিন্তায়, মতামতে, দৃষ্টিভঙ্গিতে অনেকটাই প্রভাব ফেলেছিলেন সে। কেবল সিনিয়র নয়! ওদের চারজনের জীবনে শিক্ষকের মতো ছিলেন সে৷ অনেক খোঁজ করেছিল ওরা, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি৷ গানের বিষয় তিনি জানান, “এই সিনেমার গানটা ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ৷ নব্বই দশকের প্রেক্ষাপটে বানানো৷ তখনকার দিনের আর এখনকার দিনের গানের মধ্যে অনেকটা পার্থক্য রয়েছে৷ তখন একটা মিউজিকাল ম্যাজিক ছিল৷ সেটাই আমরা রিক্রিয়েট করেছি৷”

পুরনো দিন গুলির কথায় ভাসতে ভাসতে, মনে পড়ে যায় তাঁদের এক সিরিয়রের কথা। যাঁর বহুদিন হল কোনও খোঁজ নেই৷ অতীতের বেড়াজ্বাল টপকে তাঁরা ঠিক করে দার্জিলিং ঘুরতে যাবে। যেমন কথা তেমনি কাজ। দার্জিলিংয়ের কাছে একটি গ্রামে ঘুরতে যায় তারা৷ এখানে এসে তারা খুঁজে পায় সেই সিনিয়রকে। আর অবাক হয়ে যায় দেখে কীভাবে গ্রামের মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে সে। শহরের সুবিধা, আড়ম্বর ছেড়ে পাহাড়েই বসবাস শুরু করেছেন তাও আবার নিজের স্বার্থের জন্য নয়, গ্রামের মানুষদের স্বার্থে৷

তাঁরই ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়৷ “গান চালিয়ে যারা কেবল নাচতে পছন্দ করেন, তারা হয়তো রিইউনিয়নের অ্যালবাম খানিকটা অপছন্দ হবে৷ কিন্তু গান বলতে গানই বোঝেন৷ গানটা শোনার, হৃদয়ঙ্গম করার, মনে নেওয়ার, মাথায় নেওয়ার তাহলে তারা সম্পূর্ণ স্যাটিসফায়েড হবেন এই ছবির গান শুনে৷ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গানগুলো শুনুন৷”

রাইমার কথায়, “আমার ক্যারেক্টারটা খুব স্পেশাল৷ গানের সঙ্গে ছবির গল্প ওতোপ্রতোভাবে ভাবে জড়িত৷ গানের সঙ্গে একটা অদ্ভুত মেলবন্ধন রয়েছে ছবির চরিত্রগুলোর সঙ্গে৷” বন্ধুত্ব, হোস্টেললাইফ, নস্ট্যালজিয়া৷ ছাত্রজীবনের সবকিছুকে নিয়ে তৈরি এই ছবি৷ সেই সিনিয়রের এই পরিবর্তন কেমন প্রভাব ফেলবে চার বন্ধুর ওপর? কেন সে ছেড়ে এল শহর? কেনই বা এই চারজন তাকে খুঁজে ফেরে? নিখাদ বন্ধুত্বের মাঝে রয়েছে নানান ট্যুয়িস্ট। সবকিছু নিয়েই বড়পর্দায় নভেম্বরে আসছেন পরিচালক।

Advertisement
-----