তৃণমূল পার্টি অফিসে উল্টো জাতীয় পতাকা, ধৃত মেডিক্যালের ছাত্র

সঞ্জয় কর্মকার, বর্ধমান: তৃণমূল পার্টি অফিসে উল্টো জাতীয় পতাকা টাঙানোর ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে গ্রেফতার হয়েছিলেন প্যারা মেডিক্যালের এক ছাত্র৷ রবিবার ওই ছাত্রের জামিন মঞ্জুর হয়েছে৷

স্বাধীনতা দিবসের দিন তৃণমূল পার্টি অফিসে উল্টো করে জাতীয় পতাকা টাঙানোর অভিযোগ উঠেছিল বর্ধমানের ভাতার থানার খুড়ুল গ্রামে। সেই ছবি কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন৷ সেই পোস্টটি নজরে আসে খুড়ুল গ্রামের বাসিন্দা প্যারা মেডিকেলের ছাত্র অমিত ঘোষের। পোস্টটি দেখা মাত্রই নিজের ফেসবুকের দেওয়ালে ছবিটি শেয়ার করেন তিনি৷ ছবির সঙ্গে দেন স্টেটাসও৷ এরপরই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের রোষানলে পড়েন অমিত৷

অমিতের অভিযোগ, প্রথমে তাঁর কাছে ওই পোস্টটি তুলে নেওয়ার আবেদন করা হয়। তিনি সেই পোস্টটি তুলে নেওয়ার পরও তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে৷ তাঁর বিরুদ্ধে গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ জমা দিয়েছেন ভাতার থানায়। এরপরই পুলিশ অমিত ঘোষের বিরুদ্ধে ৫০৫ বি, ৫০৪, ৩২৩ ও ৩৪ আইপিসি ধারায় মামলা রুজু করে।

- Advertisement -

অমিত ঘোষের বাবা রাধারমণ ঘোষ জানিয়েছেন, ১৬ তারিখ রাত প্রায় সাড়ে বারোটা নাগাদ ভাতার থানার পুলিশ গিয়ে তাঁর বাড়ির দরজা ভেঙে ঘুমন্ত অবস্থায় অমিতকে তুলে নিয়ে যায়। ১৭ তারিখ তাকে থানায় আটকে রাখা হয়৷ রাধারমণবাবুর দাবি, এতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা দেশেক উল্টো পতাকা লাগিয়ে পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টে তাঁর ছেলেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনায় সকলের প্রতিবাদ করা উচিত বলে মনে করেন রাধারমণবাবু।

রবিবার ধৃত অমিত ঘোষকে বর্ধমানের সিজেএম আদালতে হাজির করা হয়।এদিন তাঁর জামিনের পক্ষে জোড়ালো সওয়াল করেন তার আইনজীবী স্বপন বন্দোপাধ্যায়। স্বপনবাবু এদিন অম্বিকেশ মহাপাত্রের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এই পোস্টে দেশের প্রতি জাতীয়তাবোধেরই পরিচয় দিয়েছেন অমিত। কিন্তু তাকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়েছে। অন্যদিকে, সরকারী পক্ষের আইনজীবী ধৃতের জামিনের বিরোধিতা করেন। অভিযোগকারীর পক্ষে তিনি সওয়াল করায় বিচারকের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয় তাঁকে।

ভারপ্রাপ্ত সিজেএম সোমনাথ দাস এদিন সরকারী আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, কারা এই পতাকা উল্টো করে লাগিয়েছেন কেন তার কোনও উল্লেখ নেই পুলিশি রিপোর্টে। এমনকি অভিযোগে বলা হয়েছে, ধৃত ব্যক্তিই উল্টো করে পতাকা লাগিয়ে সেই ছবি তুলে পোস্ট করেছেন। কিন্তু পুলিশি রিপোর্টে এমন কোনো কথা বলা নেই। তাই কিসের ভিত্তিতে ধৃতের বিরুদ্ধে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগের ধারা যুক্ত করা হল প্রশ্ন তোলেন বিচারক।

বিচারক জানান, জাতীয় পতাকা তোলার একটি নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। সে বিষয়ে সচেতন করার জন্যই অভিযুক্ত পোস্ট করে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি করেছেন। এতে আপত্তি থাকার কথা নয়। দুপক্ষের সওয়াল শুনে বিচারক ধৃতের জামিন মঞ্জুর করেন।

Advertisement ---
---
-----