ক্রেতাদের সুবিধা বাড়িয়ে আবাসনের বিলে সম্মতি মন্ত্রিসভার

নয়াদিল্লি: অবশেষে বেশ কিছু সংশোধনী মেনে নিয়ে রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি বিল অনুমোদন করল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা৷ এরফলে ব্যাংক বিমার মতোই রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রেও একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা হবে , যা আবাসন এবং বাণিজ্যিক বিল্ডিং তৈরিতে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি ক্রেতা-স্বার্থ সুরক্ষা করবে ৷ এদিকে এভাবে রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এলে , এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগও বাড়বে বলে আশা করা হয়েছে ৷৷ প্রসঙ্গত, পণ্যপরিষেবা কর সংক্রান্ত বিলটির মতোই রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি বিলটিও রাজ্যসভায় অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে ৷ বিরোধীদের দাবিতে এনডিএ সরকারের পেশ করা এই বিলটি রাজ্যসভায় একটি কমিটির কাছে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছিল৷ সেই কমিটির সুপারিশ মেনে মূল বিলের ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীতে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা৷
এই সংশোধনীর ফলে, ৫০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা অথবা ৮টি বা তার বেশি সংখ্যক ফ্ল্যাট রয়েছে এমন যে কোনও আবাসন প্রকল্পকে প্রস্তাবিত নিয়ামক সংস্থার কাছে নথিভুক্ত হতে হবে৷ মূল বিলটিতে বলা হয়েছিল , ন্যূনতম ১ ,০০০ বর্গমিটারের প্রকল্প হলে তবেই নিয়ামক সংস্থার কাছে নথিভুক্ত করার কথা ৷ সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী এখন অনেক বেশি সংখ্যায় আবাসন প্রকল্প এই নিয়ামক সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীনে আসবে৷ তাছাড়া নথিভুক্ত আবাসন প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে নিমার্ণকারী সংস্থা ফ্ল্যাট বিক্রি বা অগ্রিম বুকিং বাবদ ক্রেতাদের কাছ থেকে মোট যে টাকা নিয়েছেন তার অনন্ত ৭০ শতাংশ একটি পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (এসক্রো অ্যাকাউন্ট ) জমা রাখতে হবে ৷ ওই টাকা কেবলমাত্র প্রকল্পটির নিমার্ণেই খরচ করতে হবে৷ যদিও মূল প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল ৫০ শতাংশ টাকা জমা রাখার৷ তাছাড়া প্রাথমিক খসড়া বিলে ছিল, আবাসন নিমার্ণ হয়ে গেলে তার পরের দু’বছরের মধ্যে কোনও নিমার্ণ-কাঠামোগত ত্রুটি দেখা দিলে তার দায় বর্তাবে নিমার্ণ সংস্থার ওপর৷ এই প্রস্তাবনারও সংশোধনের ফলে বলা হয়েছে , পাঁচ বছরের পর্যন্ত কাঠামোগত ত্রুটির দায় নিতে হবে নিমার্ণ সংস্থাকে ৷ আবার ফ্ল্যাট কেনার কিস্তি দিতে কখনও ব্যর্থ হলে যে হারে একজন ক্রেতাকে সুদ দিতে হবে , সেই একই হারে নিমার্ণ সংস্থাকেও জরিমানা দিতে হবে ক্রেতাকে যদি প্রতিশ্রুতি মতো আবাসনের কাজ শেষ করে ফ্ল্যাটের চাবি তুলে দিতে না পারে৷

ক্রেডাইয়ের মতে আবাসনের দাম কমেছে

তাছাড়া এই রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি আইন প্রণয়ন হলে সমস্ত আবাসন কেনাবেচা হবে কার্পেট এরিয়ার ভিত্তিতে৷ যদিও বর্তমানে এটা হয়ে থাকে সুপার -বিল্ট বা বিল্ট -আপ এরিয়ার ভিত্তিতে৷ কারণ এরফবে দেখা যায় কেউ যে পরিমাণ জায়গার জন্য দাম দিয়ে  ফ্ল্যাট কেনা হচ্ছে , বাস্তবে তার চেয়ে অনেক কম জায়গা পাওয়া যায়৷ যেহেতু  ওই সুপার -বিল্ট বা বিল্ট -আপ এরিয়ার নাম করে সিঁড়ি , লিফট , কমন প্যাসেজ , বাগান ইত্যাদি এমন অনেক কিছুই ধরা থাকে৷ বুধবারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা যে সংশোধীত অনুমোদন করেছে তাতে কার্পেট এরিয়ার সংজ্ঞা ব্যাখ্যা করা হয়েছে৷ যাতে কার্পেট এরিয়ার মধ্যে রান্নাঘর এবং বাথরুমও ধরা হবে কিন্তু বাদ দেওয়া হচ্ছে গ্যারাজ ৷ সেক্ষেত্রে ক্রেতাদেরও আলাদা করে গ্যারাজ কিনতে হবে৷
পরবর্তী কালে আবাসন প্রকল্পের কোনও রকম পরিবর্তন করতে গেলে , নিমার্ণ সংস্থাকে ওই আবাসনের দুই -তৃতীয়াংশ ক্রেতাদের অনুমতি নিতে হবে৷সবচেয়ে বড় কথা  ফ্লাট কেনা নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতার কোনও বিবাদ হলে তা সমাধানের জন্য রিয়েল এস্টেট নিয়ামক সংস্থা ছাড়াও জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন ওই ক্রেতা৷

Advertisement ---
---
-----