ধানের মূল্য না দেওয়ার অভিযোগ রাইসমিলের বিরুদ্ধে

সঞ্জয় কর্মকার, বর্ধমা: রাজ্য সরকারের ঘোষণা সত্ত্বেও প্রায় চার হাজার কৃষকের কাছ থেকে সরকারী সহায়ক মূল্যে ধান কিনে তাঁদের টাকা না দেবার অভিযোগ উঠল কিছু রাইসমিলের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বর্ধমান জেলার গলসী ১নং ব্লকের পারাজ গ্রামে। অভিযোগ জানিয়ে সোমবার পারাজ গ্রামের কৃষকরা তাঁদের ন্যায্য টাকা পাওয়ার দাবীতে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপিও দেন।

কৃষকরা জানিয়েছেন, এক বৈঠকে ঠিক হয় রাইসমিলগুলি ধানের দাম হিসাবে ৩০ শতাংশ টাকা নগদে এবং বাকি টাকা চেকের মাধ্যমে প্রদান করবে। কিন্তু মাসখানেক অতিক্রম হয়ে গেলেও এখনও কোনও টাকা হাতে পাননি বলে দাবি করেন তাঁরা। এব্যাপারে মিলগুলি কোনরকম সদুত্তরও দিতে চাইছেন না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তাঁদের হুঁশিয়ারী, প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা না নিলে আগামী দিনে তাঁরা বৃহত্তর গণ আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

এদিকে, চাষিদের এই অভিযোগ সম্পর্কে পারাজ ট্রেডিং রাইস মিলের কর্ণধার আব্দুস সালাম মন্ডল জানিয়েছেন, সম্প্রতি রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি বা বিডিও-র দফতর থেকে টোকেনের মাধ্যমে যে ধানগুলি আসবে সেগুলিই সরকারী সহায়ক মূল্যে কেনা হবে এবং সরকার সেই ধানের পরিবর্তের লেভি নেবে। কিন্তু পারাজ গ্রামের এই চাষিরা কেউই টোকেনের মাধ্যমে ধান বিক্রি করেননি। কার্যত গায়ের জোরেই মিলগুলিকে ধান কিনতে বাধ্য করা হয়েছে। টোকেন ছাড়া ওই ধানগুলি কেনার জন্য রাইসমিলগুলির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ সরকার এই ধানের জন্য কোনও লেভি আদায় নেবে না। ফলে সমস্যায় পড়েছেন রাইসমিলগুলি।

- Advertisement -

এই ঘটনা সম্পর্কে বর্ধমান জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ ইসমাইলও জানিয়েছেন, , বিক্ষিপ্তভাবে তাঁদের কাছে কিছু অভিযোগ এসেছে যে, জোর করে পঞ্চায়েত প্রধানদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে টোকেন লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement
---