রাইফেল গায়েব করে শিক্ষা, আতঙ্কে আত্মঘাতী পুলিশ-কর্মী

সৌরভ দেব, জলপাইগুড়ি: সহকর্মীর রাইফেল ‘উধাও’ করে শিক্ষা দেওয়ার জেরে হতাশায় আত্মঘাতী হলেন বানারহাট থানায় এক কনস্টেবল৷ বুধবারের এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ মহলে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বানারহাট থানায় সেন্টির দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মী চন্দন রায় রাইফেল হাতেই ঘুমিয়ে পড়েন৷ ডিউটি-রত অবস্থায় ঘুমানোর শিক্ষা দিতে অন্য-সেন্ট্রি তাঁর রাইফেল গায়েব করে দেন বলে অভিযোগ৷ ঘুম ভাঙতেই  রাইফেল না পেয়ে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই পুলিশকর্মী৷ দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পরেও রাইফেল না মেলায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করল বানারহাট থানার কনস্টেবল চন্দন রায়।

মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিশ মহলে। মঙ্গলবার রাতের এই ঘটনা চাক্ষুষ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন জলপাইগুড়ি ডিআইও ২-এর ইন্সপেক্টর রাম সিং।

পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন রাতে বানারহাট থানায় স্পেশাল পরিদর্শনে আসেন ইন্সপেক্টর রাম সিংয়ের। বানারহাট থানায় ঢুকে তিনি দেখেন কর্তব্যরত সেন্ট্রি চন্দন রায় রাইফেল হাতেই ঘুমিয়ে পড়েছেন৷ পাশাপাশি, ডিউটি অফিসার কুমার তামাংও ঘরে বেপাত্তা৷ এই ঘটনা দেখে দু’জনকে শিক্ষা দিতে ইন্সপেক্টর রাম সিং, সেন্ট্রির দুই পায়ের মাঝে গুঁজে রাখা রাইফেলটি বের করে নেয়। এরপর খুব সতর্ক ভাবেই দরজা আটকে দিয়ে বেরিয়ে যান। এরপর ওই তিনিই ওই রাইফেলটি নিয়ে বানারহাটের অন্য একটি পুলিশ ক্যাম্পে জমা দিয়ে প্রায় ১০ মিনিট পর পুনরায় থানায় আসেন। ইন্সপেক্টর ক্যাম্প থেকে থানায় ঘুরে আসতেই দেখেন, সেন্ট্রি চন্দন রায়ের মৃত্যু হয়েছে। অনুমান তিনি রাইফেল চুরি যাবার ঘটনায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

রাতেই গোটা ঘটনাটি ছড়িয়ে যায় গোটা পুলিশ মহলে। ভোর হতেই বানারহাট থানায় যান জলপাইগুড়ি জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভোলানাথ পান্ডে সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। বানারহাট থানার অন্যান্য কনস্টেবলরা ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কনস্টেবলদের অনুমান, অবসর গ্রহণের মাত্র চার মাস বাকি ছিল চন্দন রায়ের। এই মুহূর্তে কর্তব্যরত অবস্থায় রাইফেল খোয়ানোয় কি শাস্তি হতে পারে তা আন্দাজ করেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি।
বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, চন্দন রায় তাঁর ব্যারাকে যাবার সময় ডিউটি অফিসার কুমার তামাং-কে স্পষ্ট জানিয়ে যান, সে আত্মহত্যা করতেই যাচ্ছে। কিন্তু আগাম জানিয়ে যাবার মুহূর্তেও তাঁকে ডিউটি অফিসার এক বারের জন্যেই বারণ করেনি বলে অভিযোগ।

পুলিশ কর্মীর আত্মহত্যার ঘটনায় তড়িঘড়ি জেলা পুলিশের আধিকারিকদের ঘটনাটি জানিয়ে দেয়। রাত ৩টে নাগাদ ঘটনার কথা শুনেই ধূপগুড়ি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বানারহাট থানায় পৌঁছে যায়। সকাল হবার পর মৃতদেহ নামিয়ে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই পুলিশ-কর্মী চন্দন রায়ের বাড়ি কোচবিহার জেলার সাহেবের এলাকায়। পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, ‘‘প্রাথমিক ভাবে মৃতের দুই ছেলের সঙ্গে কথা বলেছি৷ তাঁদের পরিবারে একমাত্র রেজগেরে৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই আপনজনকে হারিয়ে পরিবারের সকলেই শোকগ্রস্ত। আর রাইফেল হারিয়ে গেলে কি আর এমন হতো, সেটা একটু সময়ের ব্যাপার ছিল। কিন্তু আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে সম্ভবত এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে, গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

----
-----