সিপিএম থেকে সাসপেন্ড বুদ্ধ ঘনিষ্ঠ ঋতব্রত

কলকাতা: সিপিএম থেকে সাসপেন্ড বুদ্ধ ঘনিষ্ঠ সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়৷ ঋতব্রতের বিরুদ্ধে গঠিত হয়েছে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি৷ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন মহম্মদ সেলিম, মদন ঘোষ, মৃদুল দে৷ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাসপেন্ড থাকবেন ঋতব্রত৷ আজ রাজ্য কমিটির বৈঠকে সিপিএমের পক্ষ থেকে দলেরই সাংসদের বিরুদ্ধে অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷

সূত্রের খবর, ‘মহিলা’ সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে৷ তবে, আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করা না হলেও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে ঝড় উঠতে শুরু করেছে৷ এর আগেও নিজের ফেসবুক পেজে বিতর্কিত ছবি পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন সিপিএম সাংসদ৷ দলের টাকায় ‘বাবুগিরি’ করার অভিযোগও ছিল সিপিএমের এই সাংসদের বিরুদ্ধে৷

চলতি বছরের শুরুতেই ম্যাচ দেখতে গিয়ে বড় বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন সিপিএম সাংসদ। যা নিয়ে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। যার কেন্দ্রীয় চরিত্রে রাজ্যসভার সিপিএম সাংসদ এবং তরুণ সিপিএম নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি শিলিগুড়িতে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান খেলা দেখতে গিয়েছিলেন ঋতব্রত। কিন্তু সমস্যার সূত্রপাত খেলা দেখার মাঝে তোলা ঋতব্রতর একটি ছবি নিয়ে। সেই ছবিতেই ফেসবুকে কমেন্ট করেন এক ব্যক্তি।

- Advertisement -

ঋতব্রতর পকেটে থাকা কলম এবং হাতে থাকা ঘড়ি নিয়ে ফেসবুক পোস্টে প্রশ্ন তোলা হয়। ফেসবুকে ওই ব্যক্তি প্রশ্ন তোলেন, সিপিএমের একজন হোলটাইম সদস্য হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এত দামি ঘড়ি, কলম ব্যবহার করেন সিপিএম সাংসদ। দাবি করা হয়, ঋতব্রতর হাতের ঘড়িটির দাম প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা। আর যে স্মার্টফোনের সাহায্যে ওই ঘড়িটি চলে, অ্যাপেল-এর সেই স্মার্টফোনের দাম অন্তত আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা। ঋতব্রতর পকেটে থাকা জার্মান ব্র্যান্ডের কলমটির দামও তিরিশ হাজার টাকার বেশি বলে দাবি করেন ওই ব্যক্তি।

যদিও, পার্টির নিয়ম অনুযায়ী সাংসদ হিসেবে নিজের বেতনের পুরো অর্থটাই দলকে দিয়ে দেওয়ার কথা ঋতব্রতর। দল থেকে তিনি যে ভাতা পান, সেই টাকায় এমন ব্যয়বহুল ঘড়ি, কলম ঋতব্রত কীভাবে ব্যবহার করেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ওই ব্যক্তি। অভিযোগ, যে ব্যক্তি ফেসবুকে এই মন্তব্য করেন, তাঁর উপরে খেপে গিয়ে তাঁর অফিসের এইচআর বিভাগের এক আধিকারিককে ই-মেল করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি নিজেকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ফেসবুকে তাঁর আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। এমনকী, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করায় তিনি দিল্লির থানায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন ঋতব্রত।

এই ঘটনার পর ঋতব্রতর বিরুদ্ধে দলের অন্দরে ক্ষোভের চোরাস্রত তৈরি হয়৷ বাধ্য হয়ে দলের পক্ষ থেকে নেতাদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের উপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়৷ সিপিএমের ফেসবুক ‘ফতোয়া’ না পাত্তা না দিয়ে একের পর এক ছবি ও দলের একাংশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তিনি৷ দলের টাকায় ‘বাবুয়ানি’ করা সিপিএমের এই সাংসদের বিরুদ্ধে শুধু সেফবুকে ‘বিপ্লব’ করার অভিযোগই ওঠেনি, রয়েছে আরও অনেক কিছুই৷ সিপিএম নেতাদের একাংশের অভিযোগ, সাংসদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দিল্লিতে ‘মহিলা সংক্রান্ত’ বেশ কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সিপিএমের রাজ্য দফতরে৷ দলের ইমেজ ভেঙে সাংসদের জীবনযাত্রার মান নিয়েও ক্ষোভ জমছিল৷ তবে, এদিন ঠিক কী কারণে সাংসদকে সাসপেন্ড করল সিপিএম? তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি৷ আজ সাংবাদিক বৈঠক করে তা স্পষ্ট করতে পারেন সূর্যকান্ত মিশ্র৷

Advertisement ---
---
-----