বিকাশ ভবনের সামনে রাস্তা অবরোধ হবু শিক্ষকদের

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার দাবিতে আচার্য সদন থেকে বিকাশ ভবন পর্যন্ত মিছিল করে ডিওয়াইএফআই-এর সদস্য সহ এসএসসি চাকরিপ্রার্থীরা৷ মোট তিন দফা দাবি নিয়ে এদিন বিকাশ ভবনের সামনে প্রায় আধ ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করেন তারা৷ শিক্ষা সচিবের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি স্মারকলিপিও৷

এদিন তিনটি প্রধান দাবি নিয়ে ডিওয়াইএফআইয়ের সদস্য ও হবু শিক্ষকরা আসেন বিকাশ ভবনের সামনে৷ সেখানেই জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা৷ বিকাশ ভবনের সামনের রাস্তা প্রায় ৩০ মিনিটের জন্য অবরোধ করে রাখেন ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীরা৷

ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য কমিটির সদস্য কলতন দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘প্রায় হাজার দুয়েক এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের মিছিল হয়েছে৷ কথা ছিল দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেওয়া হবে৷ কিন্তু, শিক্ষামন্ত্রী না থাকায় সেই স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা সচিবের হাতে৷’’

- Advertisement -

বিক্ষোভকারীদের দাবি, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে প্রকাশ করতে হবে চাকরির শূন্যপদের তালিকা৷ সেই তালিকায় ঠিক কতগুলি পদ শূন্য রয়েছে তার উল্লেখ করতে হবে৷ বিষয় অনুযায়ী চাকরির শূন্যপদের তালিকা পিডিএফ ফরম্যাটে প্রকাশ করে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ করতে হবে৷ পাশাপাশি, কাট অফ নম্বর নির্দিষ্ট করে জানিয়ে দেওয়ারও দাবি তোলা হয়েছে এদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচিতে৷

কলতন দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘শূন্যপদের তালিকা যদি ছাত্রছাত্রীদের কাছে না থাকে তাহলে তো তারা বুঝতে পারবেন না কত আসন ফাঁকা আছে বা কত আসনে নিয়োগ হবে৷ সেখান থেকেই দুর্নীতির উৎস হয়৷ সেখান থেকেই দাবি তোলা হয়েছে কত পদ শূন্য রয়েছে তার তালিকা প্রকাশ করতে হবে৷’’ কাট অফের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘ঠিক কত নম্বর পেলে ছাত্রছাত্রীরা সফল হবেন তা জানা দরকার৷ না জানলে তারা কত নম্বর পেল, আর ঠিক কত নম্বর পেলে নিয়োগ হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়৷ ধরা যাক, বলা হল কাট অফ নম্বর ৭০৷ একজন পরীক্ষার্থী পেল ৫০৷ সেক্ষেত্রে তিনি বুঝতে পারেন যে কী কারণে তার চাকরি হল না৷ কিন্তু, কাট অফ নম্বর বলা না হলে, কেউ যদি ৮০ নম্বর পেয়েও চাকরি না পান, তাহলে তিনি বুঝতে পারবেন না কেন তাঁর চাকরি হল না৷’’

এ ছাড়া, বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদের তালিকা পিডিএফ ফরম্যাটে প্রকাশ করে স্বচ্ছভাবে নিয়োগের দাবি তোলার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, ‘‘পিডিএফ একবার ডাউনলোড করে নিলে তা আর পরিবর্তন করা যায় না৷ আগে তালিকা এমনভাবে প্রকাশিত হত, যেখানে ওয়েবসাইটেই তালিকাটা এডিট হয়ে যেত৷ তাই আমরা পিডিএফ ফরম্যাটে এই তালিকা চেয়েছি৷ যাতে, আমরা এই তালিকা ডাউনলোড করে নিজেদের কাছে পারি৷’’ এর ফলে দুর্নীতির সম্ভাবনাও কমে যাবে বলে মনে করছেন তিনি৷

Advertisement ---
-----