কালান্তক এইডসের মারণ জালে আবদ্ধ বাংলাদেশ

ঢাকা: আশঙ্কা ছিল, সেটাই সত্যি হতে চলেছে৷ মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেহে বাসা নেওয়া এইডস ক্রমশ ছড়াচ্ছে৷ গত মে মাস পর্যন্ত এইডস রোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ছাড়িয়েছে। এসব রোগী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাইরে অবাধ চলাফেরা করায় মারণ রোগ ছড়িয়ে যাচ্ছে। এর ফলে সারা দেশের মানুষ রীতিমতো বিপদের মুখে৷ তৈরি হয়েছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা৷

মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশের বাসিন্দা রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেদেশের সেনা দমন নীতি প্রয়োগ করেছে৷ মায়ানমার সরকারের দাবি, রোহিঙ্গা জঙ্গিদের ঠেকাতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি৷ তবে সেনা অভিযান ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উঠছে প্রশ্ন৷ বিভিন্ন সংগঠনদের দাবি, সরকারি মদতে নির্বিচারে গণহত্যা, ধর্ষণ চালানো হয়েছে৷ প্রাণ বাঁচাতে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন চট্টগ্রাম, টেকনাফ, কক্সবাজারে৷ আর এই পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কারণে এইডস ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ।

মায়ানমারের জনসংখ্যা ৫ কোটি ২০ লক্ষ। এর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণে আক্রান্ত ২ লক্ষের বেশি জন৷ এদের বড় অংশ রোহিঙ্গারা৷ যেভাবে রোহিঙ্গাদের দেহ হতে কক্সবাজার সংলগ্ন এলাকায় এইডস ছড়াচ্ছে তাতে চিন্তিত স্থানীয় প্রশাসন৷ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক উদ্বিগ্ন৷

- Advertisement -

রাষ্ট্র সংঘের এইডস বিষয়ক সংস্থার মতে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় এইডস ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম মায়ানমার। সে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হাজারে আটজন এইডস আক্রান্ত। এদের পরিবারের সবার মধ্যেই রোগ সংক্রমিত হয়েছে। এর আগেও মায়ানমার থেকে বিভিন্ন সময়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইডস রোগী মিলেছে। বাংলাদেশে এইডস রোগীর সংখ্যা ০. ১ শতাংশ। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭২১ জনকে এইডস রোগী চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে এইডসে সংক্রমিত ২৪০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) এবং বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, এইডস রোগীর সংখ্যা ৬ হাজারের বেশি। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে মায়ানমার সরকারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ জারি রেখেছে বাংলাদেশ সরকার৷

Advertisement ---
---
-----