‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী আর রোহিঙ্গাদের গুলি করে মারা উচিত’

নয়াদিল্লি: এনআরসি রিপোর্ট নিয়ে যখন গোটা দেশ উত্তাল, তখন সেই বিতর্ক আরও উসকে দিলেন তেলেঙ্গানার বিজেপি বিধায়ক রাজা সিং৷ তাঁর মতে ভারতকে সুরক্ষিত রাখতে গেলে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গাদের গুলি করে মারা উচিত৷ যদি ভাল কথায় কাজ না হয়, তবে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া উচিত এদের৷ প্রয়োজনে গুলি করে মেরে ফেলা উচিত৷

রাজা সিং মঙ্গলবার বলেন ভারতকে নিরাপদ রাখতে হলে এদের দেশ থেকে তাড়াতেই হবে৷ তবেই দেশের নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকবে৷ রাজা সিংয়ের এই মন্তব্য ঘিরে রীতিমতো বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ এই মন্তব্য করে কার্যত নিজের দলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছেন তিনি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা৷

এদিন রাজ্যসভায় এই ইস্যুতে সরব হন অমিত শাহও৷ তিনি বলেন ‌এনআরসি তৈরি করা হয়েছে শরণার্থীদের চিহ্নিতকরণের জন্য। ১৯৮৫ সালে এই উদ্দেশ্যেই রাজীব গান্ধী অসম অ্যাকর্ড তৈরি করেছিলেন। কিন্তু সেটা কার্যকর করার সাহস দেখাতে পারেননি। মোদি সরকার সেই সাহস দেখাতে পেরেছে। অমিত শাহের এই মন্তব্যের পরই ওয়েলে নেমে হইহট্টগোল শুরু করে বিরোধীরা৷

- Advertisement -

এদিন এই ইস্যুতে বিতর্কিত মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজুও৷ সরকার যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভীষণভাবে সতর্ক এবং কোনও রকম নমনীয় মনোভাব নিয়ে চলছে না তা স্পষ্ট করে দেন তিনি। রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে কথা বলে পরোক্ষে অসমের ৪০ লাখ বাসিন্দার ভবিষ্যত কী হতে চলেছে তার ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন তিনি।

তাঁর মতে যাঁরা এই দেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা এখানকার নাগরিক হতে পারবেন না। অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীতে যাঁদের নাম নেই তাঁরা যে পরোক্ষে এখনও দেশের নাগরিক নন তা বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন ভারত কোনও ধর্মশালা নয়। এখানে আশ্রয় নিতে পারে শরণার্থীরা কিন্তু পাকাপাকিভাবে বসবাস করতে দেওয়া হবে না। নিজের জায়গায় তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সবরকম সহযোগিতা ভারত করবে।

তিনি আরও জানান, জম্মু–কাশ্মীরে সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার পরেই হায়দরাবাদ এবং তেলঙ্গানায় আশ্রয় নিয়েছে বেশিরভাগ রোহিঙ্গা মুসলিম। এঁরা যাতে দেশের ক্ষতির কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সেদিকে কড়া নজর রাখছে সরকার।

Advertisement
---