নির্বাচনের আগেই ঘুষ দিয়ে ভোটার হচ্ছে রোহিঙ্গারা

কক্সবাজার: বছর পেরিয়ে গেল৷ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের এখনো ফেরানো যায়নি তাদের দেশ মায়ানমারে৷ সেই দেশের রাখাইন প্রদেশে থেকে গত বছরের ২৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর তাড়া খেয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসেছেন চট্টগ্রামে৷ রাষ্ট্রসংঘের হিসাবে বাংলাদেশ প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গা রয়েছেন৷ এদিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের পরিস্থিতি চরম অবর্ননীয়৷ ছড়াচ্ছে এডসের মতো রোগ৷ তারই মধ্যে উঠে এসেছে আরও এক তথ্য৷ ঢাকার ওয়েব সংবাদ মাধ্যম ‘বাংলা ট্রিবিউন’ জানাচ্ছে, রাজনৈতিক মদতে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশি ভোটার তালিকায় নাম তুলছেন৷ নির্বাচন কমিশন বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার পরও নানা কৌশলে বাংলাদেশি নাগরিক হয়েছে তারা৷

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক অনুসন্ধানে রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। চট্টগ্রামের পাঁচ জেলায় ২৪৩ জন রোহিঙ্গা ভোটার হয়েছেন বলে আশঙ্কা৷ এই বিষয়টি স্বীকার করেছেন চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার মহ. হাসানুজ্জামান। তাঁর অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সব কাগজপত্র সংগ্রহ করে দিচ্ছে৷ এভাবে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার হওয়া থেকে আটকানো নির্বাচন কমিশনের কাজ নয়৷

কৌশলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নাগরিক হয়ে যাচ্ছেন। টাকা দিলেই মিলছে জন্মের সার্টিফিকেট৷ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গারা পেয়ে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় সব নথি৷ এসব ব্যবহার করেই তারা ভোটার হচ্ছে। পাসপোর্ট তৈরি করে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে মধ্যপ্রাচ্য সহ বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছে। টাকার বিনিময়ে একটি দালাল চক্র এসব কাগজপত্র রোহিঙ্গাদের সরবরাহ করে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে এই মুহূর্তে দুনিয়ার সবথেকে বড় শরণার্থী শিবির তৈরি হয়েছে সেখানে৷ পলাতক রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকেই গণ ধর্ষণের শিকার, প্রকাশ্যে গণহত্যা ঘটেছে৷ আন্তর্জাতিক মহলের অভিযোগে চরম বিতর্কে জড়িয়েছে মায়ানমার সরকার ও তাদের প্রধান আউং সান সু কি৷ যদিও বর্মী সরকারের দাবি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র সংগঠনকে রুখতেই সেনা অভিযান হয়েছিল৷

গত এক বছর ধরে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও মায়ানমার সরকারের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা হলেও পরিস্থিতির অগ্রগতি হয়নি৷ বরং রাখাইন প্রদেশের নির্যাতনের এক বছর পরেও মায়ানমারের দিক থেকে শরণার্থী আসা বন্ধ হয়নি৷

Advertisement
----
-----