চারবার গণধর্ষণ মামলায় জড়িয়েছে গডম্যান ‘রোহিনী বাবা’

প্রতীকি ছবি

লখনউ: দু’দিন আগে দিল্লির রোহিনী আশ্রম থেকে ৪১ জন নাবালিকা মেয়েকে উদ্ধার করা হয়৷ আশ্রমটি চালাতেন বাবা বীরেন্দ্র দেব দীক্ষিত৷ ঘটনার পর থেকেই পলাতক বাবাজী৷ এরপরই বাবাজীরও একাধিক কুকীর্তির কথা সামনে আসতে শুরু করেছে৷ এক সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে ‘রোহিনী বাবার’ বিরুদ্ধে চারটি গণধর্ষণের মামলা ঝুলছে৷ এখানেই শেষ নয়৷ কীর্তিমান বাবার আরও অনেক কীর্তির নজির আছে৷

কীর্তিমান গডম্যানদের তালিকায় নয়া নাম বীরেন্দ্র দেব দীক্ষিত৷ তার কীর্তির তালিকা ভালোই দীর্ঘ৷ যুবা বয়সে এক মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে৷ এরপরই তার বাবা তাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়৷ ১৯৮৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর মাউন্ট আবু থেকে ফিরে এসে বাড়ি ভেঙে আশ্রম তৈরি করে বীরেন্দ্র৷

১৯৯৮ সালে ফারুক্কাবাদ জেলায় বাবাজীর বিরুদ্ধে চারটি গণধর্ষণের মামলা দায়ের করা হয়৷ সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার করতে আশ্রমে যায় পুলিশ৷ কিন্তু বাবার অনুগামীরা তাদের বাধা দেয়৷ এমনকী বাবার উস্কানিতে তাদের মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ৷ সেই বছরই গডম্যানের বিরুদ্ধে বিদ্যুত চুরির অভিযোগ দায়ের করে বিদ্যুত দফতর৷ এরপর ২০১১ সালে মহারাজগঞ্জ জেলায় বীরেন্দ্র দেবের বিরুদ্ধে এক মহিলাকে অপহরণ করে খুন করার অভিযোগ দায়ের করা হয়৷

- Advertisement -

এক পুলিশ আধিকারিক জানান, গণধর্ষিতারা সকলেই বাবার অনুগামী৷ ফারুক্কাবাদ জেলার কাপিল শহরের আশ্রমে তারা থাকতেন৷ ১৯৯৭ সালে তিন মাস ধরে লাগাতার তাদের ধর্ষণ করে গডম্যান ও তার শাগরেদরা৷ কোনরকমে সেই আশ্রম থেকে পালিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা৷ এরপরই থানায় বাবার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পুলিশ৷ সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে কানপুরের আইজি অলোক সিং বলেন, বীরেন্দ্র দেব দীক্ষিতের বিরুদ্ধে সাত থেকে আটটি ফৌজদারী মামলা দায়ের আছে৷ সবকটি ১৯৯৮ সালের৷

১৯৬৯ সালে প্রজাপতি ব্রহ্মকুমারি ইশ্বরীয় বিশ্ব বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বীরেন্দ্র দেব দীক্ষিত৷ ক্রমে নিজেকে স্বঘোষিত গডম্যান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে৷ গডম্যান হওয়ার পর দেশের মধ্যে ৫০টি আশ্রম খোলে৷ তার মধ্যে দুটি আশ্রম আছে ফারুক্কাবাদ জেলায়৷ সূত্রের খবর, রোহিনী আশ্রমে তল্লাশি চলার সময় একটি সাদা ভ্যানে করে ছ’টি মেয়েকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়৷ স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফারুক্কাবাদ জেলার ওই দুই আশ্রমে দিন রাত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকত৷ আশ্রমে থাকা কোন মহিলাকে কখনও বাইরে বের হতে দেখা যেত না

Advertisement ---
---
-----