মেসি-রোনাল্ডো নেই, বৃষ্টিও নেই কী হবে কলকাতার ?

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: এক আষাঢ়ে রাতে স্বপ্নভঙ্গ কল্লোলিনীর। বর্ষার রাত ভোর এক করে গলা ফাটিয়ে কলকাতার ওলিগলি ফেটে চৌচির হওয়ার উপক্রম। কোন ভগবান আসল প্রমান মিলবে এই রজনীতেই। মেসি না রোনাল্ডো। ১৮০ মিনিটে প্রমান হয়ে গেল কেউ ভগবান নয়। দুজনেই মানুষ। তবু ‘বৃষ্টি’ ঝরল না চোখ দিয়ে। কারন কলকাতা হতভম্ব। বিশ্বাসঘাতক প্রকৃতিও। না হলে বার বার কেন এমন মিস কল দিচ্ছে বর্ষা?

কী নিয়ে বাঁচবে কলকাতা? বিশ্বকাপে ঈশ্বররা নেই। নিদেনপক্ষে বৃষ্টি। সেটা তো হতেই পারত। সেটাও নেই। ঘোর আষাঢ়ে কোথায় ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হবে। তার মাঝে পাড়ায় তেলেভাজা মুড়ি নিয়ে বসে মেসি রোনাল্ডো গোলের ফোয়ারা ছোটাবেন। ‘হারজেন্টিনা’ আর্জেন্তিনা হবে, রোনাল্ডো বুলেট শটে প্রতিপক্ষের জাল ছিঁড়ে দেবেন। চেঁচিয়ে গলা ধরিয়ে ফেলবে বলে ঠিক করেছিল কলকাতাবাসী। কিন্তু ভাবনাই সার। আষাঢ়ে মেঘ। না দেয় বৃষ্টি। না দেয় ভগবানদের গোলের বৃষ্টি ঝড়াতে। দেখায় শুধুই ছড়িয়ে ছিটিয়ে মাঠ ময়দান এক করতে।

রোনাল্ডো মেসিকে নিয়ে এত গলাবাজি করে কি পেল কলকাতা? কিচ্ছু না। ভেবেছিল শনিবারের গুমোট গরমে ঝেঁপে বৃষ্টি আসবে। সেখানে রোম্যান্টিক ছবির নায়কের কান্নার মতো কাঁদবে। গলা বেরোবে না। শুধু চোখ দিয়ে জল বেরোবে। কিন্তু কেউ বুঝবে না সেই কান্না। ফক্কা ফক্কা। রোনাল্ডোরা ঝলক দেখালেন না। চাঁদ-তারা দিব্য ছুটে বেরাল রাতভর।

- Advertisement -

রবিবার সকালে কলকাতার আম জনতার খবরের কাগজেও মন নেই। কী দেখবে? কী পড়বে? দেখবে শূন্য চোখে দাঁড়িয়ে আছেন মেসি। উলটে পড়ে আছেন সি আর সেভেন। এ মানা যায় না। রবিবার সকালে মেঘ করতে দেখে খানিক মনটা ভালো হয়েছিল। বেলা গড়াতেই সব গণ্ডগোল। কিচ্ছু নেই। বিরক্তির মাঝেই হাওয়া অফিসের খবরে জানা গিয়েছে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। বর্ষা না কি এখন ছুটিতে গিয়েছে।

কল্লোলিনী ভাবছে, এত পরপর ছুটি সরকারি বাবুরাও পায় না। সামান্য মাস দুয়েকের অতিথির এত ছুটি আসছে কোথা থেকে! অবাক কলকাতা। আষাঢ়ে খাঁ খাঁ রোদ। জল নেই ঝড় নেই। রবি ঠাকুরের অবাক জলপান নেই। শুধুই আছে হতাশা। বুকে ফাটে তবু চোখ ফাটে না।

কী যে হবে মহানগরের! উত্তরে না কি দেদার বৃষ্টি হচ্ছে। কিছু না হলে সেখানে কোনও এক পাহাড়ে গিয়ে দুঃখ লুকোতে হবে। ভক্তের ভগবান রয়ে গেলেন সেই কেষ্ট। বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি রোনাল্ডো হয়ে রইলেন সেই ‘উচ্ছিষ্ট’।

Advertisement ---
---
-----