রোজভ্যালি তদন্ত: খতিয়ে দেখা হবে প্রভাবশালীদের ভূমিকাও

কলকাতা:  তদন্তে নেমে রোজভ্যালি গোষ্ঠীর সম্পত্তির পূর্ণ তালিকা তৈরি করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট৷‌ সংস্থার কর্ণধার গৌতম কুণ্ডু জানিয়েছিলেন, বাজার থেকে যা টাকা তোলা হয়েছে, তার থেকেও বেশি সম্পত্তি রয়েছে রোজভ্যালির৷‌ কীকরে তিনি এত সম্পত্তি করলেন? তা খতিয়ে দেখতে এই তালিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন ইডি আধিকারিকেরা৷‌ তালিকা তৈরির সময় যে কোনও ধরণের গরমিল ধরা পড়লে সেই সম্পত্তি বাজেয়াপ্তও করা হতে পারে৷‌তদন্তে নেমে এখনও পর্যন্ত ১০ রাজ্যে রোজভ্যালির সম্পত্তির হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা৷‌ বিদেশও সম্পত্তি থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে৷‌ ভিন দেশে রোজভ্যালির টাকা পাচার হয়েছে কি না, সে-বিষয়ে নিশ্চিত হতে গৌতমবাবুকে জেরা করা হচ্ছে৷‌ জিজ্ঞাসাবাদ চলছে পদস্হকর্তাদেরও৷‌ ইতিমধ্যে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গে কয়েকটি সম্পত্তি এবং প্রায় আড়াই হাজার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে ই ডি৷‌ এবার বাকি সম্পত্তিগুলিও নিজেদের দখলে নিতে চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্হা৷‌
অন্যদিকে গৌতম কুণ্ডুর সঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র ছবিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে৷‌ ইউটিউবে একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ২০০৯ সালে একটি হোটেলের উদ্বোধনে রয়েছেন বাবুল৷‌ সেখানে গৌতমের সঙ্গে পাশাপাশি বসে রয়েছেন রাষ্ট্রমন্ত্রী৷‌ ই ডি সূত্রে খবর, প্রভাবশালীদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷‌ ব্যবসার শুরু থেকে কয়েকজন প্রভাবশালী নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন গৌতমবাবুর সঙ্গে৷‌ গৌতমবাবু দাবি করেছিলেন, তিনি অনৈতিক ভাবে আমানতকারীদের কাছ থেকে টাকা নেননি৷‌ নিয়ম মেনে ব্যবসা করেছেন৷‌ যদিও সেবি এই যুক্তি খারিজ করে দেয়৷‌ তদন্তে নামে৷‌ এবং পরবর্তী ক্ষেত্রে টাকা তোলায় ফতোয়া জারি করে সেবি৷‌ ইডি অফিসারদের অভিযোগ, তার পরেও আমানতকারীদের কাছে থেকে টাকা নিয়েছে রোজভ্যালি৷‌ এমন কী ২০১৪ সালেও টাকা জমা পড়েছে রোজভ্যালির বিভিন্ন অফিসে৷‌ এই তথ্য হাতে আসার পরই গৌতম কুণ্ডুকে তলব করে ই ডি৷‌ জিজ্ঞাসাবাদের পরে সদুত্তর দিতে না পারায় তাঁকে গ্রেপ্তার করেন তদম্তকারীরা৷‌ দিল্লি, ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিসগড় এবং তামিলনাড়ুতেও সংস্থার অফিস এবং সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গেছে৷‌ এ পর্যন্ত জানা গেছে, রোজভ্যালি গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে৷‌ আসামে রোজভ্যালির সম্পত্তির পরিমাণ সব থেকে বেশি৷‌ সেখানের আমানতকারীর সংখ্যাও বেশি৷‌ তার পর পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা৷‌ বিভিন্ন জায়গায় হোটেল এবং জমি রয়েছে সংস্হার৷‌ বেনামে কোনও জমি বা সম্পত্তি রয়েছে কি না, সে-বিষয়ে জেরা করা হচ্ছে গৌতমবাবুকে৷‌ ই ডি সূত্রে খবর, ২০১২-১৩ সালে সব থেকে বেশি টাকা তুলেছিল রোজভ্যালি৷‌ সংস্থার ২৭টি কোম্পানির নথি পাওয়া গেলেও তার মধ্যে রোজভ্যালি রিয়েল এস্টেট, রোজভ্যালি কনস্ট্রাকশন, রোজভ্যালি হোটেল অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের মতো ৬ কোম্পানির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেছে৷‌ এই কোম্পানিগুলির মধ্যেই ব্যবসার মুনাফার টাকা ঘোরাফেরা করেছে৷‌ কিছু কোম্পানির ব্যাল্যান্স শিট অলাভজনক দেখানো হয়েছে৷‌ সম্প্রতি দেশ জুড়ে রোজভ্যালি গ্রুপের ৪৩ জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে সি বি আই৷‌

Advertisement ---
---
-----