ভাগাড় কাণ্ডের পর এবার পচা মুরগীর মাংসের হদিশ

স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া: ভাগাড় কাণ্ডের পর এবার পচা মুরগির আতঙ্ক ছড়াল হাওড়ায়৷ মঙ্গলবার সকালে লিলুয়ার পুলিশ আউট পোস্টের কাছে একটি টাটা ম্যাজিক গাড়ি আটক করে৷ উদ্ধার হয় চারটি ট্রে-বোঝাই পচা মুরগির মাংস৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের আউট পোস্টের কাছে একটি টাটা ম্যাজিক গাড়ি আসে৷ গাড়িটি থেকে দুর্গন্ধ বের হতে থাকে৷ পুলিশের সন্দেহ হয়৷ সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটিকে আটক করে পুলিশ৷ গাড়িটি থেকে চারটি ট্রে-বোঝাই পচা মুরগির মাংস উদ্ধার করে পুলিশ৷ মাংসগুলো উদ্ধার করে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ৷

আরও পড়ুন: মাটি মাফিয়ার উপদ্রবে নাজেহাল গ্রামবাসী

- Advertisement -

গাড়ির চালককে আটক করে জিঞ্জাসাবাদ করে পুলিশ৷ তাঁর থেকে জানতে পারে ওই মাংসগুলো বর্ধমানের পানাগড় থেকে হাওড়ার বিভিন্ন মার্কেটে সরবরাহ করার জন্য আনা হয়েছিল৷ গাড়ির চালক জানিয়েছে, শুধু মঙ্গলবার নয় রোজ সকালে এই পচা মাংস কলকাতার নিউ মার্কেট ও হাওড়ার ধূলাগড়, কদমতলা সহ বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়৷ ঘটনার তদন্তে নেমেছে লিলুয়া থানার পুলিশ৷

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, গাড়িটিকে আটকে রাখার কিছুক্ষণ পর থেকেই দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে৷ তাঁদের ধারণা সোমবার দিনের বেলায় ওইমাংসগুলো কেটে ডিপ ফ্রিজে রাখা হয়৷ তারপরেই গাড়িতে করে রাতে চালান করা হয় বাজারের রেস্তোরাঁগুলিতে৷ গাড়িতে থাকতে থাকতেই বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে৷ এই মাংস পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে৷

আরও পড়ুন: রাহুলের ইফতার পার্টিতে যোগ দিচ্ছেন প্রণব

প্রসঙ্গত, ভাগাড়কাণ্ড সামনে আসার পর হাওড়া স্টেশন লাগোয়া একটি নামী পাঁচতলা হোটেলে অভিযান চালান হাওড়া জেলা স্বাস্থ্য দফতরের ডেপুটি সিএমওএইচ-২ কুণালকান্তি দে ও পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এমআইসি ভাস্কর ভট্টাচার্যর নেতৃত্বাধীন টিম৷

তাঁরা হোটেলে হানা দিয়ে দেখেছিলেন ফ্রিজারে বরফে জমাট বেঁধে গিয়েছে বাসী মুরগির মাংস, পমফ্রেট, ইলিশ মাছ৷ মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া একাধিক দুধের প্যাকেটও৷ যা দেখে তদন্তকারীদের অনুমান, এগুলি অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিনের পুরনো হবে৷

আরও পড়ুন: জল ছাড়াই ৭০ বছর কাটিয়ে বিজ্ঞানীদের বিস্ময় এই যোগী

তদন্তকারীরা প্রতিটি জিনিসের নমুনা সংগ্রহ করেনি৷ তদন্তকারীরা জানান, হোটেলের ফ্রিজারে মাছ-মাংস মিলিয়ে প্রায় ১ কুইন্ট্যাল কাঁচা খাদ্য সামগ্রী মজুত ছিল৷ অবিলম্বে সেগুলি নষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়৷ নির্দেশ মানা হয়েছে কি না, তা দেখতে ফের অভিযানে যাবেন তাঁরা৷

সূত্রের খবর, অভিযানের সময় হোটেলে ছিলেন না হোটেল মালিক কিংবা ম্যানেজার৷ রিসেপশনে থাকা কর্মীরা হোটেলের ট্রেড লাইসেন্স বা ফুড লাইসেন্স দেখাতে পারেনি৷ ঘটনার পরের দিন সেগুলি নিয়ে কর্তৃপক্ষকে পুরসভা ও স্বাস্থ্য দফতরে দেখা করার নির্দেশ দেন তদন্তকারীরা৷

আরও পড়ুন: বাড়িতে বসে ডিও তৈরি করুন

এরপরেই ওই দলটি কোনা এক্সপ্রেসওয়ের ধারে ক্যারি রোডের একটি নামী রেঁস্তোরায় হানা দেয়৷ সেটি খাসি ও মুরগির বিরিয়ানির জন্য বিখ্যাত৷ সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে ভেজাল মশলা উদ্ধার করা হয়৷ তদন্তকারীদের মতে, যা একেবারেই স্বাস্থ্য সম্মত নয়৷ মুরগি কিংবা খাসির মাংস ঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি বলেও তদন্তকারীরা জানান৷

Advertisement
---