জুরিখ: ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ তাঁর নির্দেশে ইরানে তেল রফতানি বন্ধ হলে অন্য কোনও দেশও তেল বিক্রি করতে পারবে না৷ এমনই হুমকি দিলেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি৷ বিদেশ সফরে রয়েছেন ইরানি প্রেসিডেন্ট৷ সুইৎজারল্যান্ডের জুরিখ পৌঁছে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র মার্কিন বিরোধী ক্ষোভ জানিয়ে দিলেন৷

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্টের চাহিদা অনুসারে সৌদি আরব সর্বকালীন রেকর্ড গড়ে অপরিশোধিত তেল উত্তোলনে জোর দিয়েছে৷ এর জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম কমার ইঙ্গিত মিলেছে৷ একা সৌদি আরব দুনিয়ার বৃহত্তম জ্বালানি তেল সরবরাহকারী৷

আরও পড়ুন: প্রতিদিন বিশ্বে জানেন কত কোটি ব্যারল তেলের প্রয়োজন হয়?

এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আরব দুনিয়ার অন্যান্য দেশগুলি৷ কিন্তু ইরানের হুঁশিয়ারিতে বিপদের আঁচ পাচ্ছে বিশেষজ্ঞরা৷ ইরান কি অন্য দেশের তেল রফতানিতে বাধা দেবে ? উঠছে এই প্রশ্ন৷ ইরানি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে আরব দেশগুলির প্রতি হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়৷ রুহানি জানিয়েছেন, ইরানের তেল রফতানি বন্ধ করে দিতে চায় মার্কিন সরকার। কিন্তু এমনটা হলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনও দেশ তেল বিক্রি করতে পারবে না৷

আন্তর্জাতিক মহলের স্পষ্ট অভিমত, ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্পর্ক আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে৷ সেই রেশ ধরেই ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া হুমকির জবাব দিচ্ছেন৷ তিনি বলেছেন, দেশ কখনোই চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। আমরা বিদেশিদের জানিয়ে দিয়েছি যদি তারা ইরানি জনগণের সঙ্গে সম্মান ও যুক্তির ভাষায় কথা বলে তাহলে যেকোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিন্তু হুমকি, চাপ ও অবজ্ঞার ভাষায় কথা বললে ইরানিরা কোনওদিন মেনে নেবে না।

আরও পড়ুন: মাটির তলায় অন্তত ২২ দিনের তেল মজুত রাখতে চায় ভারত

ইরানি পরমাণু কর্মসূচি ঘিরেই যাবতীয় বিতর্ক৷ তেহরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন৷ জুরিখে পৌঁছে রুহানি জানিয়েছেন, একটি দেশ ইরানি জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়েছে৷ এর ফলে ইরানের নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসবে না। যদিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে বিভিন্ন রাষ্ট্র৷

----
--