৩০০কোটি টাকার দাবিহীন সুইস অ্যাকাউন্টে জড়িয়ে ভারতীয়রাও

ফাইল ছবি

সুইজারল্যান্ড: সুইস ব্যাংকে কালো টাকা ইস্যু বারবারই ঘুরে ফিরে এসেছে ভারতীয় রাজনীতিতে৷ এরপরেও এই ব্যাংকে ভারতীয়দের বহু অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ এই বিষয়ে জানানোর তিন বছর পরেও অ্যাকাউন্ট নিয়ে কোনও দাবি কেউ জানায়নি৷

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবার সুইজারল্যান্ডে এই ধরণের নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের কথা জানিয়েছিল৷ এতে সুইস নাগরিকদের পাশাপাশি ভারতেরও বহু নাগরিক যুক্ত ছিল৷ ছিল আরও অন্যান্য বিদেশী নাগরিকের অ্যাকাউন্টও৷

এভাবেই বহুবার এমন সব নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে৷ তবে কোনও গ্রাহক অ্যাকাউন্টের দাবি জানালে তা খতিয়ে দেখার পর তালিকা থেকে সেই অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নেওয়া হয়৷ এভাবেই ২০১৭ সালে ৪০ অ্যাকাউন্ট সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল তালিকা থেকে৷ তবে এখনও পর্যন্ত ৩,৫০০ অ্যাকাউন্ট রয়েছে যার মধ্যে কমপক্ষে ৬ ভারতীয় নাগরিকের নাম জড়িয়ে রয়েছে৷

- Advertisement -

পড়ুন: নোট বাতিল মোটেই ভালো সিদ্ধান্ত ছিল না: রঘুরাম রাজন

প্রসঙ্গত, সুইস ব্যাংকের পক্ষ থেকে যে তথ্য তুলে ধার হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, গত একবছরে ভারতীয়দের সঞ্চিত ধন ৫০শতাংশ বেড়ে গিয়েছে৷ এর আগে এই বৃদ্ধি কমে গেলেও ২০১৭ তা লাফিয়ে এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে যা বিরোধী শিবিরের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠবে বলে জল্পনা রাজনৈতক মহলে৷

নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর টানা তিন বছর কালো টাকা কমে আসছিল৷ কিন্তু ২০১৬ সালে নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পর হঠাৎ করেই সুইস ব্যাংকে কালো টাকা সঞ্চয়ের পরিমাণ বেড়ে যায়৷ অর্থাৎ ২০১৬-র নভেম্বর এবং ২০১৭-র মধ্যে সবথেকে বেশি টাকা সুইস ব্যাংকে পৌঁছেছে৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নোট বাতিলের কথা ঘোষণা করার পর কালো টাকাতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হয়েছে বলা হয়েছিল৷

জানা গিয়েছে, সুইস ব্যাংকে ২০১৬ সালে ভারতীয় টাকা ৪৫শতাংশ কমে প্রায় ৪৫০০ কোটি টাকা হয়৷ কিন্তু ২০১৭ সালে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে আবার ৫০শতাংশ এই টাকা বেড়ে গিয়েছে৷ এই অঙ্ক প্রায় ৬৮৯১কোটি টাকা হয়ে যায়৷ তবে এমন নয় যে সুইস ব্যাংকে ভারতীয় অর্থ এই প্রথম বেড়েছে৷ ২০১১ সালে ১২শতাংশ, ২০১৩ সালে ৪৩শতাংশ, ২০১৭সালে ৫০.২শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল এই অর্থ৷ আবার ২০০৪সালে তা হয়েছিল ৫৬শতাংশ৷

Advertisement ---
---
-----