আতঙ্কিত রানিগঞ্জবাসীর প্রশ্ন বহিরাগতরা কেন ছড়াচ্ছে গুজব?

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: একরাশ উৎকণ্ঠা৷ ফোনে বারবার জানতে চাওয়া কেমন আছে সব ? আবার প্রশ্ন, দাদা বলো না সব ঠিক আছে তো ? অনেক দূরে আছি বাড়ির জন্য চিন্তা বাড়ছে৷ কী বলব জানিনা৷ চুপ করেই থাকলাম৷

ছেলেটা বারবার জানতে চায় বাড়ির খবর৷ মলয় মণ্ডল৷ কর্মসূত্রে গুজরাতে থাকে৷ রানিগঞ্জের বাসিন্দা৷ সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখে চিন্তিত হয়ে পড়েছে৷ বিভিন্ন সংবাদপত্রেও চোখ রেখেছে৷ টিভির পর্দায় দেখেছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তপ্ত রামনবমীর ছবি৷ এখন সবকিছু বিস্তারিত জানতে চাইল৷ মলয় চিন্তিত৷ তাকে ঘিরে রেখেছে আশঙ্কার মেঘ৷

চিন্তিত তুষার রায়৷ চোখের সামনে দেখেছে সেই ভয়াবহ মুহূর্ত৷ তারপরেই সিদ্ধান্ত নেয় রানিগঞ্জ ছাড়ার৷ আপাতত আছে কাছাকাছি৷ ফোন করে জানতে চাইল বুধবারের পরিস্থিতি৷

- Advertisement -

বাঁকুড়া নিবাসী তুষার আর গুজরাতে কর্মসূত্রে থাকা মলয়ের মধ্যে একটা মিল-দুজনেই সমান আশঙ্কিত ৷ শুধু এই দু’জনই নয়, রানিগঞ্জের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ও বিদেশে থাকা অনেকেই গত দু’দিনে মেসেজের পর মেসেজ পাঠিয়েছে৷ কেউ বয়স্ক, কেউ কমবয়সী৷ কেউ অনাবাসী ভারতীয় কেউ ভিন রাজ্যে কর্মরত৷

গুজরাতে কী হচ্ছে ? ওখানকার রামনবমী কেমন দেখেছ? সবই পিসফুল৷ পশ্চিমবঙ্গে কেন এমন হল? মলয়ের উদ্বিগ্ন প্রশ্ন৷ আর তুষার বলল ভয়ের মুহূর্তটা৷ সেদিন সবই দেখলাম৷ দোকানগুলো কেমন ভেঙে আগুন ধরিয়ে দিল ওরা৷ মুখে ধর্মীয় স্লোগান৷ তারপরেই চলে এসেছিলাম৷ এখন আর ফিরছি না৷

অনেক অনাবাসী বাঙালির সঙ্গেও জড়িয়ে রানিগঞ্জ৷ খুঁজে পেতে তারা জানতে চাইলেন পরিস্থিতি৷ জানালেন, ফোন না পাওয়া প্রথমদিকে বেড়েছিল উদ্বেগ৷ পরে আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে খানিকটা স্বস্তি পেয়েছেন তাঁরা৷

এদিকে সোশ্যাল মিডিয়া উপচে পড়ছে উত্তেজক ছবিতে৷ অভিযোগ উঠছে, এই সব বিভিন্ন উস্কানিমূলক পোস্ট থেকেই অশান্তি ছড়াচ্ছে৷ এটা রুখবে কে?অনিবার্য ও অত্যন্ত কঠোর বাস্তব প্রশ্ন৷ গত কয়েকদিনে ধর্মীয় শোভাযাত্রা ঘিরে যেসব উস্কানিমূলক পোস্ট ছড়ানো হয়েছে তার জেরেই এই রক্তাক্ত কাণ্ড৷ তবে সেটা যে রানিগঞ্জেই এতবড় আকার নেবে তা ছিল ধারণার বাইরে৷

বাইরে থাকা এই রানিগঞ্জবাসীরা স্পষ্ট অভিযোগ করছেন, বহিরাগতদের আনাগোনা নিয়ে৷ মূলত তাদেরই প্ররোচনায় ছড়িয়েছে সংঘর্ষ৷ প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে, রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও৷ সকালে যখন রানিগঞ্জের বিধায়ক রুণু দত্তের সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলাম, তিনিও স্পষ্ট জানালেন বহিরাগতদের প্ররোচনার বিষয়টি৷ একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও সরব হলেন৷

প্রকাশ্যে যেভাবে পুলিশের উচ্চপদস্থ অফিসারের হাত বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে ঝুলছে সেই ছবিটাই সবথেকে বেদনা দায়ক৷ রক্ষাকারীর যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আম জনতার কী হবে৷ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন ভয়ার্ত মলয়৷

রামনবমী রানিগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই হয়৷ তাতে বাঙালি-অবাঙালি সবাই সক্রিয় অংশ নেন৷ সেই উৎসব শোভাযাত্রা ঘিরেই টাকা ছড়ানোর অভিযোগ শুনিয়েছেন ভয়ার্ত রানিগঞ্জবাসীর কয়েকজন৷ তাঁরা বলেছেন, শহর সংলগ্ন একের পর এক গ্রামে ধর্মীয় উস্কানি দাতাদের ভিড় বাড়ছিল তবুও প্রশাসন নীরব ছিল৷ এটা কি পরিকল্পিত? প্রশ্ন তাঁদেরও৷ মুখ্যমন্ত্রী আসবেন কি পরিস্থিতি দেখতে? জানতে চাইলেন কয়েকজন৷

বাতাসে ছড়াচ্ছে গুজব৷ প্রশাসন জানাচ্ছে, গুজবে কান দেবেন না৷ সেটাই করতে চান রানিগঞ্জবাসী৷ কিন্তু গুজব যখন রটে তখন দাবানলের আকারে ছড়িয়ে পড়ে৷ সেই তরঙ্গ রুখবে কে? শান্তি খুঁজতে থাকা রানিগঞ্জবাসী এরই উত্তর খুঁজছেন৷

Advertisement
----
-----